৮ বছর শিকলে বন্দী তিন সন্তানের জননী
মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েছে। বাকি দুই ছেলের কেউই স্কুলে যায় না। ১৩ বছর বয়সী ছেলেটা প্রতিদিন যায় স্থানীয় ডেকরেশনের হেলপারের কাজে। আর পাঁচ বছর বয়সী ছেলেটি সারাদিন শিকল পরানো মায়ের চারপাশে ধুলোমাটিতে খেলে। মাঝে মাধ্যে দৌড়ে এসে মায়ের কোলজুড়ে বসে, গলা জড়িয়ে ধরে মাকে আদর করে। বলছিলাম ৮ বছর শিকলে বন্দী তিন সন্তানের জননীর কথা।বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার দরিদ্র ওই জননীর মা গোলেজান বিবি জানান, প্রায় ৮ বছর ধরে মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন। এদিক-সেদিক চলে যেত। তাই শিকল পরিয়ে রেখে চিকিৎসা চলছে। নাতিরা তো তার মাকে দেখতে পায়!
গোলেজান বিবি আরো জানান, তার স্বামীর মৃত্যুর পর ২ ছেলে ও ৪ মেয়েকে নিয়ে অভাবে সংসার চলে। নিজে মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। চিতলমরাী থানার পশ্চিম দিকে ওয়াপদা রাস্তার পাশে ঘর করে থাকেন। এই তার মেজ মেয়ে। সংসারে অভাবের কারণে ১২ বছর বয়সে তাকে বিয়ে দিতে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামী তাকে ছেড়ে দেয়। পরে দ্বিতীয় বিয়ে হয় সাতক্ষীরার দবির মুন্সীর সাথে। কয়েক বছর পর সেও ছেড়ে চলে যায়। ৩ সন্তানকে নিয়ে বিপদে পড়ে মেয়েটি। বেঁচে থাকার জন্য শুরু করে টাকা খাটানো (সুদ ব্যবসা) কাজ। স্থানীয় এক লোককে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তা আর ফেরত পায়না। উল্টো সে ভীষণ খারাপ আচরণ করে। এরপর থেকে তার মেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারায় বলে দাবী করেন গোলেজান।
তিনি মেয়েকে খুলনার এক চিকিৎসককে দেখিয়েছেন। কিন্তু ভালো হয়নি। মেয়ের চিকিৎসা কোথায় ভাল হবে তা জানা নেই। আর্থিক দৈন্যতাও চরমে। পরিবারে আয়ক্ষম কোনো পুরুষ নেই। মেয়ের উন্নত চিকিৎসা ও নাতিদের স্কুলে পাঠানো দরকার বলে জানান বয়োবৃদ্ধ গোলেজান।চিতলমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইউপি সচিব পরিতোষ চক্রবর্ত্তী জানান, গোলেজানের পরিবার বিভিন্ন ভাতা পেত। কিন্তু প্রতিবন্ধিদের তালিকায় ওই মেয়েটির নাম নেই।চিতলমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এই উপজেলায় বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতাভোগী ১৯৩৮ জন, এর মধ্যে চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ২৭৭ জন। উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৯৩৭ জন, এর মধ্যে চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ৯৮ জন।




