মাদক মামলার আসামি বানিয়ে শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার!
নিউজ ডেস্ক।। বস্তায় ৮ কেজি ‘গাজা ঢুকিয়ে’ মাদক মামলার আসামি বানিয়ে এক শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে নাটোরের বাগাতিপাড়া থানার সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাবাসও করতে হয়েছে ওই শিক্ষিকাকে। জামিনে মুক্ত হয়ে গতকাল নাটোর শহরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার চন্দ্রখইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মুন্নি পারভিন (৩৪)। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, রাতে তার বাসায় খাওয়া-দাওয়ার পর বস্তায় ‘গাজা ঢুকিয়ে’ তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছেন এএসআই গোলাম রাব্বানী।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্নি পারভিন বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোলিং এজেন্টের প্রশিক্ষণ নিয়ে উপজেলার মিশ্রিপাড়ায় বাবার বাড়িতে পিঠা খেতে যান তিনি। এ সময় বাগাতিপাড়া থানার এএসআই গোলাম রাব্বানী ও তার একটি দল সেখানে আসেন। রাত হয়ে যাওয়ায় তাদের খাবার খেয়ে যেতে বলা হয়। মুন্নি আরও বলেন, রাতে খাওয়া দাওয়ার পর হঠাৎ তাদের সবাইকে একটি ঘরে আটকে রাখেন রাব্বানী। পরে বাইরে থেকে একটি বস্তা এনে সেখানে গাঁজা আছে বলে সেটি উদ্ধারের দাবি করেন। এরপর তাকেসহ তার মা নাসিমা বেগম ও স্বামী আমির হোসেনকে থানায় নিয়ে যান গোলাম রাব্বানী। এরপর মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠান এএসআই।। এরপর আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান। পরে জামিন নিয়ে মুক্ত হন তিনি।
আজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত ও বিচার দাবি করেন শিক্ষিকা মুন্নি পারভিন। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমার বাবার বাড়িতে যদি গাঁজা পাওয়াই যায়, তাহলে আমি কেন এই মামলার আসামি হবো?’ ওই শিক্ষিকা বলেন, কয়েকদিন আগে বাগাতিপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সময় ওই এএসআই য়ের সঙ্গে আমার তর্ক হয়। আমি নিশ্চিত, সেই ঘটনার জের ধরে আমাকে ফাঁসাতে তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।’
এদিকে এ বিষয়ে এএসআই গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে কথা হলে আমাদের সময়কে তিনি বলেন, ‘শত শত লোকের সামনে একটি বস্তায় ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে ওই বাড়ি থেকে। ওই বাড়ির মালিক স্কুলশিক্ষিকা মুন্নি। তাই তখন সেখানে যাকেই পাওয়া হয়েছে, তাকেই আটক করে থানায় আনা হয়। এ ছাড়া যে মামলা হয়েছে তা সম্পর্কে আমি অবগত নই।’ এ বিষয়ে মামলার বাদি উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুলের সঙ্গে কথা বলতে বলেন এএসআই রাব্বানী।
ওই শিক্ষিকা জিডির প্রসঙ্গে গোলাম রাব্বানী বলেন, স্কুলশিক্ষিকা তার স্বামীর বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন। ঘটনার সত্যতা না থাকায় জিডি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলার বাদি এসআই খায়রুলের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি এই থানায় নতুন এসেছেন। তাই এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে ওই শিক্ষিকার অভিযোগ সত্য হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।




