249715

পরিচয়পত্রে ‘দৌলতদিয়া পতিতালয়’

যত বিড়ম্বনা যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের। প্রচলিত সমাজ তাদের দেখে ভিন্ন চোখে। তাদের ব্যাংক হিসাব খোলাসহ বিভিন্ন সেবা পেতে, সন্তানদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় নানান ভোগান্তিতে।কারণ তাদের পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ঠিকানা ‘দৌলতদিয়া পতিতালয়’। এতে তারা বিকল্প কর্মসংস্থানের চেষ্টা করলেও ঠিকানা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বাধা। এ জন্য যৌনকর্মীরা জাতীয় পরিচয়পত্রে ঠিকানা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।যৌনকর্মীদের বেশির ভাগেরই জাতীয় পরিচয়পত্রে গ্রামের নাম হিসেবে এনআইডি কার্ডে ‘দৌলতদিয়া পতিতালয়’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এই নামে কোনো গ্রাম নেই।দেশের ১১টি যৌনপল্লির মধ্যে দৌলতদিয়া অন্যতম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যৌনকর্মী ও তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘মুক্তি মহিলা সমিতি’র নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগম বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রে এমন ঠিকানা দিয়ে তাঁদের ছোট করা হয়েছে। কেউ এই পেশায় ইচ্ছা করে আসেননি। সমাজের কাছে এভাবে কাউকে ছোট করার অধিকার কারও নেই। তাঁরাও সমাজের আর দশজনের মতো মানুষ। ঠিকানার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’একাধিক যৌনকর্মী অভিযোগ করেছেন বিষয়টি নিয়ে। এক যৌনকর্মী অভিযোগ করেছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার হিসাব খুলতে রাজি হয়নি।

আরেক যৌনকর্মী অভিযোগ করেন, ‘আমাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে গেলে পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা নিতে গেলে বা কেউ মারা যাওয়ার পর মৃত্যুসনদ নিতে গেলেও পরিচয়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু পরিচয়পত্রে পতিতালয় লেখা থাকায় অনেকে আমাদের দিকে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকান। ছোট করে দেখা হয় আমাদের। আমরাও তো মানুষ। তাহলে কেন এত সমস্যা?’তাদের অভিযোগ নিয়ে কথা হয় দৌলতদিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবায়েত হায়াতের সঙ্গে।তিনি বলেন, বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। যেহেতু ঠিকানা পরিবর্তন বা সংশোধনের কাজটি করে নির্বাচন কমিশন, তাই অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে গ্রামের নাম ‘পতিতালয়’ সংশোধন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়া ঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ৩ হাজার ৪৬ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ১৩৭ জন নারী ভোটার। যৌনপল্লির তালিকাভুক্ত ভোটার ১ হাজার ১৬৫ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৩৫ জনই যৌনকর্মী। পল্লির বাইরে অনেক যৌনকর্মী আশপাশের ঠিকানা দিয়ে ভোটার হয়েছেন। সেই হিসাবে, যৌনপল্লিতে প্রায় দেড় হাজার ভোটার রয়েছেন।

ad

পাঠকের মতামত