249070

এবার যা করবেন মান্না

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ‘ভরাডুবি’র পর এই জোটের সামনের সারির অনেক নেতা আলোচনায় এসেছেন। এদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও আছেন, যিনি নিজে একটি আসন থেকে নির্বাচন করে হেরে গেছেন।তবে মান্না ওই নির্বাচনকে ‘নিষ্ঠুর প্রহসন’ উল্লেখ করে তা বাতিল এবং নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। রোববার বাংলাদেশ শিশু পরিষদ মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের প্রতিনিধি সভায় তিনি এ দাবি জানান।একইসঙ্গে ভবিষ্যতে কী করবেন, তারও একটি ধারণা দেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না। বলেন, ‘এখন থেকে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলবো।’

মান্নার সভাপতিত্বে সভায় ৪টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা ও প্রস্তাব গৃহীত হয়। এগুলো হলো- ১. একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ৩০ ডিসেম্বরের তিন রাত আগেই বাংলাদেশে ন্যাক্কারজনক নাটক হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিও আওয়ামী লীগ ছলচাতুরির নির্বাচন করেছিল। তারা সেবার এমন পরিবেশ তৈরি করেছিল যে, অধিকাংশ বিরোধীদল নির্বাচন বর্জন করে। এর পরের পাঁচ বছরে স্থানীয় সরকারসহ যত নির্বাচনই হয়েছে, সব তারা ছলে-বলে জিতে নিয়েছে। কিন্তু, এবারের নির্বাচনের আগে হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি ভোট বিপ্লব হবে, যাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে। ভীত ক্ষমতাসীনেরা বহুলাংশে দলীয়করণকৃত প্রশাসনকে ষোলআনা কাজে লাগায়। ২৯ ডিসেম্বর রাতের বেলা ভোট প্রদানের অর্ধেক কাজ তারা সম্পন্ন করে। বাকি যেটুক ছিল, ভোটের দিন ককটেল ফাটানো, গুণ্ডাগিরি আর ফাঁকা গুলির মাধ্যমে জনগণকে ভোট বঞ্ছিত করে তারা বিজয় অর্জন করে।জনগণ ঘৃণাভরে এই নিষ্ঠুর প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি তুলেছে।

২. সভায় নির্বাচনের পরপরই সরকারের প্রথম কর্মদিবসে পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে শ্রমিক নিহতের ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। একইসঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি ও আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে নাগরিক ঐক্য। ৩. সভায় নারী শিক্ষা বিষয়ে আল্লামা আহমদ শাহ শফীর বক্তব্যের নিন্দা, অনতিবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার ও জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। ৪. নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধগতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়।

ad

পাঠকের মতামত