দেনার দায়ে সন্তান বিক্রি করতে চান আল আমিন
নিশ্চয় শিরোনামটি দেখে অবাক হয়েছেন। অবাক হওয়ারই কথা। কারণ আমরা দেখেছি মানুষ ঋণ পরিশোধ করতে অলঙ্কার, গাড়ী-বাড়ি সহ নিজের পছন্দের জিনিপত্র বিক্রি করেন। কিন্তু ভোলার ভেদুরিয়ার এক পরিবারের বিষয়টি একদমই ভিন্ন। এমন ঘটনা দেশে খুব কমই ঘটে থাকে। অনেকের কাছে কৌতুহল মনে হচ্ছে। আবার অনেকের বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। আসলেই হবারও কথা। তবে সত্যিই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের এক পরিবার।উপজেলার ঐ ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের মো. মজনু মিয়ার বড় ছেলে মো. আল আমিনের পরিবার ২০ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য নিজের দুই সন্তানের যেকোনো একজনকে বিক্রি করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আল -আমিন বলেন, আমি আগে জাহাজে কাজ করতাম। প্রায় ৪ বছর আগে স্থানীয় ভেদুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি কীটনাশটের দোকান দেই।প্রথমদিকে দোকানটি ভালোই চলছিল। অন্যের জমি ১বছরের জন্য টাকার বিনিময়ে ধান ও সবজির চাষ করতাম। কিন্তু হঠাৎ ২০১৭ সালের শেষ দিকে ধান ও সবজির খেতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লোকসান হয়। এছাড়াও ২০১৮ সালের প্রথম মাসের শুরুতে দোকানে অনেক বাকি দেয়ায় লোকসান হয়। পরে নিরুপায় হয়ে এনজিও থেকে দুই নামে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল উঠাই ও জমিতে নতুন করে আবাদ শুরু করার জন্য স্থানীয় একজনের কাছ থেকে সুদে ২ লাখ টাকা ধার নিই। এভাবে তিন মাস পার হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।,য়
পরে এনজিওর কিস্তির টাকা ও সুদের টাকা পরিশোধ করতে কষ্ট হলে আবারও স্থানীয় আরেকজনের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা সুদে ধার নিই। এভাবে পর্যায়ক্রমে এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে সুদে ধার নেয়া টাকার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২০ লাখ টাকা। এখন দোকানে মালামাল এবং খেতে ফসলও নেই।আমার সম্পদ বলতে ৪ শতাংশ জমির উপর একটি ঘর রয়েছে। তারও মালিক আমরা ৩ ভাই ৪ বোন। তাই আমরা স্বামী-স্ত্রী বাধ্য হয়ে আমাদের দুই ছেলে সিয়াম (৫) ও সিহাব (২) থেকে যেকোনো একজনকে বিক্রি করে দেনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পারিবারিক এমন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে চোঁখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না আল-আমিন।
আল-আমিনের স্ত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে রাবেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী সবজি চাষ ও ব্যবসা করে অনেক টাকা লোকসান দিছে। বর্তমানে আমরা প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণী। প্রতিমাসে ৬০ হাজার টাকা এনজিওর কিস্তি ও সুদের টাকা পরিশোধ করতে লাগবে।আমরা এখন ঠিকমতো তিনবেলা ভাতও খাইতে পারিনা৷ কোনোরকম একবেলা রান্না করে খাই। অনেক সময় তাও পারিনা। পোলাপাইন কান্নাকাটি করলেও সময়মতো ভাত দিতে পারিনা। এমন অভাবের কথা আপনাদের বলে বুঝানো যাবেনা। নিরুপায় হয়ে আমরা এখন আমাদের একটা সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন , বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ওই ব্যক্তি অফিসে এসে আমার সাথে যোগাযোগ করলে সহযোগীতা করা যেতে পারে।




