দেব-দেবীর পূজা হেপাটাইটিস-বি আতঙ্কে
নিউজ ডেস্ক।। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উত্তর ফকদনপুর ও দেহন গ্রামে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী রোগ হেপাটাইটিস-বি। দুই বছরে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে ওই দুই গ্রামে। একের পর এক মৃত্যুতে গ্রামবাসীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ভয়ে অনেকে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা অর্চনা শুরু করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কৈলাশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘আক্রান্তদের শরীর ফুলছে ও পেটে পানি জমছে। খেতেও পারছে না। যা খাচ্ছে তা বমি করে ফেলছে। দীর্ঘ দিন রোগে ভোগার পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।’
জানা গেছে, গত বছর ৪ নভেম্বর সদর উপজেলার রহিমান পুর ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর ফকদনপুর গ্রামের সাবু চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী মিনতি রাণী এবং ১৬ ডিসেম্বর ইব্রাহিম ও কাইমতদ্দিনের মৃত্যুর পর আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ওই দুই গ্রামের মানুষ। এ নিয়ে দুই বছরে মারা যান ১৪ জন। এ ঘটনায় গ্রামবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছে।ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মী সৈয়দ ফেরদৌস আখতার বলেন, ‘মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। অনেকে প্রতিবেশীদের বাড়ি যাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।’
কয়েক বছর ধরে এ গ্রামে বিয়ের সম্বন্ধ বন্ধ রয়েছে বলে জানান ওই গ্রামের প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসীরা ভয়ে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা অর্চনা করছে।’ গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে রোগ নিরাময়ে কাজ করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অপরদিকে এই রোগের কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা মহাখালীর রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. অনিন্দিতা শবনম কোরাইশীর নেতৃত্বে চার সদস্যের টিম ৪ দিন (২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত) ধরে ওই দুই গ্রামের মানুষের রক্ত ও পানি সংগ্রহ করে।
ওই টিমের প্রধান আইইডিসিআর সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকতা ডা. অনিন্দিতা শবনম কোরাইশী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আপনারা জানতে পারবেন সবকিছু।’ ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির জানান, এটি আতঙ্কিত হওয়ার বিষয় নয়। স্বাস্থ্য বিভাগ নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে, ওই গ্রামগুলো ছাড়া আশপাশ এলাকাও। তাছাড়া রোগ প্রতিরোধে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগের গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি মেডিকেল টিম।




