স্কুলশিক্ষকের বুদ্ধিমত্তায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলো ট্রেন
নিউজ ডেস্ক।। পাবনার ভাঙ্গুড়ায় স্কুলশিক্ষক আব্দুস সবুরের সচেতনতায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলো ট্রেন। দুটি স্লিপার ভেঙে যাওয়ায় বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল রেললাইন। এ অবস্থায় ট্রেন আসলে ঘটতে পারতো দুর্ঘটনা। আব্দুস সবুরের তৎপরতায় ট্রেন চলাচল বন্ধ করে তিন ঘন্টা ধরে রেললাইন মেরামত করা হয়। শনিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা-ঈশ্বরদী রেললাইনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার স্টেশনের পূর্ব পাশে এ ঘটনাটি ঘটে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর এ প্রতিনিধিকে জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তিনি স্কুলে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার চোখে পড়ে দুটি স্লিপার ভেঙে রেললাইনের একপাশ অনেকটা নিচু হয়ে রয়েছে। তিনি জানান, রেললাইনটি চলনবিলের মধ্যে দিয়ে গেছে। তাই ভূমি থেকে রেললাইনের উচ্চতা অন্তত ৩০ ফুট। ট্রেন লাইনচ্যূত হলে তা গভীর খাদে পড়বে আশংকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। তিনি আরও জানান, আশংকা ছিল যেকোনও সময় চলে আসতে পারে দ্রুতগামী সব আন্তঃনগর ট্রেন। এটা ভেবে তিনি তাৎক্ষণিক এক কৃষকের কাছ থেকে লাল গামছা নিয়ে ওখানে টাঙিয়ে দেন। পরে তিনি দৌড়ে ছুটে যান দিলপাশার স্টেশনে।
“তবে সেখানে রেলের কাউকে না পেয়ে তিনি ফোন করেন সেখানকার এক কলেজ শিক্ষক মাহবুব আলমকে। মাহবুব আলম জরুরি বার্তাটি জিআরপি পুলিশ ও লাহিড়ী মোহনপুর স্টেশন মাস্টারের কাছে পৌঁছে দেন। এ বার্তা পায় রেলের পাকশী বিভাগের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম।এরপরই এ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে খালাসিরা সংস্কার কাজ শুরু করলেও প্রায় তিন ঘন্টা সময় লেগে যায়।” শিক্ষক আব্দুস সবুর বলেন, কোন দুর্ঘটনা না ঘটায় যেমন স্বস্তি পেয়েছি তেমনি সংবাদ পৌঁছানোর সময়টুকুতে আমি খুবই আতংকের মধ্যে ছিলাম।
ভাঙ্গুড়া স্টেশন মাস্টার আব্দুল মালেক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দুপুর দেড়টা হতে এ রুটে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রেললাইন মেরামতের জন্য ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপেস, সুন্দরবন, নীলসাগর প্রভৃতি ট্রেনের যাত্রা কিছুটা বিলম্বিত হয়।




