246268

১০ বছরেই ভেঙে যায় ৫০০ কোটির টাকার বিয়ে

রাজকুমারিকে কথা দিয়েছিলেন রাজা। তার বিয়ে মনে রাখবে জগৎবাসী। সেটা অক্ষরে অক্ষরে করে দেখিয়েছিলেন ইস্পাত সম্রাট লক্ষ্মী মিত্তাল। ২০০৪ সালে তার একমাত্র মেয়ে ভানিশার বিয়ে হয় প্যারিসে। ঐতিহাসিক ভার্সেই প্রাসাদকে মিত্তাল পরিণত করেছিলেন এক বিয়েবাড়িতে। ৫০০ কোটির বেশি টাকা খরচ করে মিত্তাল তার ২৩ বছর বয়সী রাজকন্যার বিয়ে দিয়েছিলেন ব্যাঙ্কার অমিত ভাটিয়ার সঙ্গে।বিয়ের পোশাক বানিয়েছিলেন দুনিয়ার সেরা ডিজাইনাররা। কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান শিখিয়েছিলেন নাচের ঝটকা। লুভর মিউজিয়ামের উল্টোদিকে বসেছিল সঙ্গীত-এর আসর। জাভেদ আখতার লিখেছিলেন নাটক। যাতে অভিনয় করেছিল গোটা মিত্তাল পরিবার।

পরের দিন ভার্সেই প্রাসাদে হয়েছিল এনগেজমেন্ট। ক্যানক্যান ডান্সিং-এর সঙ্গে ছিল ফরাসি অপেরা। অতিথিরা আপ্যায়িত হয়েছিলেন ল্য গ্রন্ড হোটেলে।মেহদি অনুষ্ঠানের জন্য লো ব্রিস্তল-কে করে তোলা হয়েছিল মনোরম উদ্যান। ভানিশাকে মেহদি পরাতে ভারত থেকে উড়ে গিয়েছিলেন শিল্পীরা।উড়ে গিয়েছিলেন শাহরুখ খান‚ রানি মুখার্জি‚ জুহি চাওলা‚ সাইফ আলি খান। কয়েক লক্ষ খরচ করে তাদের দিয়ে অভিনীত হয়েছিল হাস্যকৌতুক নাটক।

ঐতিহাসিক ভ্য লো ভক্নতে এস্টেটে বসেছিল বিয়ের আসর। ভারত থেকে শিল্পীরা গিয়ে বানিয়েছিলেন উদ্যানের সরোবরে নকল পদ্ম। সেই প্রস্ফুটিত পদ্মে বসে বিয়ে করেছিলেন ভানিশা-অমিত। মণ্ডপ সাজাতে হল্যান্ড থেকে গিয়েছিলেন ফ্লোরিস্টরা । অতিথিদের রাজকীয় ভাবে রাখার জন্য খরচ হয়েছিল কয়েক কোটি টাকা । বিয়ের রাতের মূল আকর্ষণ ছিল ঐশ্বরিয়ার রাইয়ের নাচ।

তবে বিয়ের মেনু কিন্তু ছিল সম্পূর্ণ নিরামিষ। কলকাতা থেকে শেফ মুন্না মহারাজ গিয়ে রান্নার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে‚ ভার্সেই প্রাসাদকে চতুর্দশ লুইয়ের রাজত্বকালের থেকে কোনও অংশে কম নাটকীয় করেননি লক্ষ্মী মিত্তাল।কিন্তু ২০০৪ সালে হওয়া বিশ্বের এই মহার্ঘ্যতম‚ স্বপ্নসম বিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শোনা যায় এক দশক পূর্ণ হওয়ার আগেই দাখিল হয় বিবাহ বিচ্ছেদ মামলা। এবং ২০১৪ সালে আলাদা হয়ে যান ভানিশা-অমিত।

ad

পাঠকের মতামত