বিরোধীদলে থাকতে জাপা নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলে থাকার দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা-কর্মীরা। জাপার সরকারে থাকার বিরোধীরা। বুধবার দুপুরে জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দীনের নেতৃত্বে দলটির বনানী কার্যালয়ের সামনে শতাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভ-মিছিল করেন।এ সময় জাপা নেতাকর্মীদের সরকারে নয়, বিরোধীদলে থাকার দাবিতে ‘পল্লীবন্ধু এরশাদ, বিরোধী দলের নেতা, বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই সময়ে বনানী কার্যালয়ে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দলটি প্রেসিডিয়াম সদস্যরা।
সভা শেষে দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, জাপা বিরোধীদলে নাকি সরকারে থাকবে এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টারি কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে মহাজোট থেকে অংশ নিয়ে ২২টি আসনে জয় পেয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে, দলটি সরকারে না বিরোধীদলে থাকবে এ বিষয় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।জিএম কাদের বলেন, সংসদে জাতীয় পার্টির অবস্থান বিষয়ে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টারি বোর্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৮ জনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। অবশ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিজয়ীরা শপথ নিচ্ছেন না বলে গুঞ্জন রয়েছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির ভূমিকা কী হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকার নাকি বিরোধী দলে থাকবে এখনই সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আলাপ-আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩০০ আসনের মধ্যে ঘোষিত ২৯৮ আসনের ২৮৮টিতে জয়লাভ করেছে। মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। বিরোধী জোট বিএনপিপ্রধান জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৬টি এবং অন্যান্য প্রার্থীরা ৪টি আসনে জয়ী হয়েছেন।
ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বর্জন করায় তাদের বিজয়ী ছয়জন শপথ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফলে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের আসনে বসতে হতে পারে জাতীয় পার্টিকে।অবশ্য বিএনপিসহ নিবন্ধিত প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দলের বর্জনে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টি সরকারে থাকার পাশাপাশি বিরোধী দলের ভূমিকাও পালন করেছিল।




