232015

জেদেরবশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেন বিল্লাল হোসেন!

নিউজ ডেস্ক।। অভাবের সংসার, তাই সপ্তম শ্রেণির পর আর লেখাপড়া করতে পারেননি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার যুবক বিল্লাল হোসেন। পেটের দায়ে কিশোর বয়সেই যোগ দেন স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের ক্যাজুয়াল শ্রমিক হিসেবে। তবে বছর দুয়েক কাজ করেও কোনো মাসিক বেতন পাননি। লাইন মেরামত করে গ্রাহকদের কাছ থেকে যা পেতেন তা দিয়েই কোনো রকমে চলত সংসার; কিন্তু একদিন বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তার দুর্ব্যবহার আর অবহেলা বিল্লালের মনে দাগ কাটে। প্রচ- কষ্ট নিয়ে ছেড়ে দেন সেই কাজ।

বিল্লাল বললেন, ‘তখন থেকে মনে জিদ আসেÑ বিদ্যুৎ নিয়ে জীবনে এমন কিছু করব, যা চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে। এর পর দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম আর সাধনায় নিজ প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পেরেছি। কোনো প্রকার জ্বালানির ব্যবহার না করেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে চলছে ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার কাজ। আমি মনে করি, একদিন এ প্রযুক্তিই দেশের বিদ্যুতের অভাব পূরণ করবে।’ পৌর এলাকার খয়েরতলা গ্রামের আলী আকবর মুন্সীর ছেলে বিল্লাল হোসেনের দুই ভাই শ্রমিকের কাজ করেন। আর একমাত্র বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। সংসারের খরচ জোগাতে নিজের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে শহরের কলাহাটা মোড়ে ‘আয়না ইজিবাইক চার্জার হাউজ’ নামের দোকান খুলেছেন বিল্লাল।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়Ñ একটি চার্জ কন্ট্রোলার, দুটি রাডার, একটি ডিসি মোটর, একটি ডায়নামা ও কয়েকটি পুলির সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়েছে তার নিজের তৈরি দুটি সার্কিট। প্রথমে ব্যাটারি দিয়ে মোটরটি চালু করার সঙ্গে সঙ্গে ওই সংযোগ অটো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুলিতে ঘুরতে শুরু করে বেল্ট। এ থেকেই উৎপন্ন হয় বিদ্যুৎ। আর সে বিদ্যুতেই চলছে ইজিবাইক চার্জ। তার এ প্রজেক্ট সফল করতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। আর নিজের পরিশ্রম তো রয়েছেই। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে একাধিকবার তাকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানেও যেতে হয়েছে। তবে যত কষ্টই হোক, দীর্ঘদিনের গবেষণা আর পরিশ্রমের পর সফলতা আসায় বেশ খুশি বিল্লাল।

আত্মপ্রত্যয়ী এই যুবক আরও জানান, তার এ প্রযুক্তিতে কম খরচে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাসা-বাড়িতেও ব্যবহারযোগ্য। তাই আরও বেশি ভোল্টেজের ডায়নামা কাজে লাগিয়ে পুরো একটি অঞ্চলে তা সংযোগ দেওয়ার ভাবনার সঙ্গে তার কাজও চলছে।
শহরের ফয়লা মাস্টারপাড়ার ইজিবাইকচালক সুজিত দাস জানান, এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন রাতে বিল্লালের উৎপাদিত বিদ্যুতে চার্জ দিয়ে সারাদিন ইজবাইক চালাচ্ছেন। এতে চার্জের কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। উল্টো আগের থেকে তার খরচও কম লাগছে। কলেজপাড়ার ইজিবাইকচালক প্রদীপ দাস জানান, আগে তিনি অন্য একটি দোকানে বাইক চার্জ দিতেন। এখন নতুন প্রযুক্তিতে উৎপন্ন বিদ্যুতে চার্জ দিচ্ছেন।

জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলা ওজোপাডিকোর উপসহকারী আবাসিক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কালীগঞ্জের এ যুবকের উৎপাদিত প্রযুক্তির কথা শুনে আমি গত বুধবার রাতে তা দেখতে গিয়েছিলাম। ছেলেটি মেধা খাটিয়ে যে কাজটি করেছে, আমার মনে হয় এটা বৃহৎ আকারে করতে পারলে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখবে।’
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহম্মদ আব্দুর রব বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিল্লালের প্রযুক্তি দেখতে গিয়েছিলাম। দেখলাম কোনো রকম জ্বালানি ছাড়াই সে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।’ উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত