হিরো আলমের প্রার্থীতা নিয়ে সংবিধান কী বলছে?
রাজনীতির মাঠে হঠাৎ আলোচনায় হিরো আলম। কে এই হিরো আলম। বগুড়ার একসময়কার চাটনি ও চানাচুর বিক্রেতা। পরে আসেন মিউজিক ভিডিওতে। পরিচিতি পান দেশে-বিদেশে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও করেন দু’দফায়। হেরেছেন ৭১ ও ১৬ ভোটে। এবার মাঠে জাতীয় সংসদের সদস্য পদে নির্বাচনে।নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা ইতোমধ্যে চাউর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আলোচনা-সমালোচনাও বইছে বেশ। হাস্যরসেরও খোরাক এই কৌতুক অভিনেতা। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে। ভাইরাল হচ্ছে তার বক্তব্য, টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকার।হিরো আমলকে নিয়ে অনেকের অনেক কথা যা বলে শেষ করা যাবে না। একজন নাগরিক হিসেবে সংসদ সদস্য হতে কি প্রয়োজন তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্ট করে লেখা আছে।
সংবিধানের ‘৬৬(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি (ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাঁহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন; (খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন; (গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন; (ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যুন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’
সংবিধান অনুযায়ী হিরো আলম সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য। তাই তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার আমাদের কারো নেই। হিরো আলম নির্বাচন করুক, সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। এমন মন্তব্যও করেছেন অনেকেই।বিভিন্ন টিভি সাক্ষাৎকারে হিরো আলম বলেন, ভারতের মোদি তো চা বিক্রি করতেন, তিনি যদি পারেন তবে আমি হিরো আলমের বেলায় এত আপত্তি কেন।সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে হিরো আলম বলেন, ‘আমাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-কৌতুক করার আগে একবার ভাবুন, জিরো থেকে হিরো আলম কেমনে হলাম। অনেক সাহস, পরিশ্রম আর স্বপ্নের জোরেই জিরো থেকে হিরো আলম হয়েছি। দেশ-বিদেশের মিডিয়ায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়জনকে নিয়ে এত মাতামাতি হয়েছে? কয়জনকে খোঁজার জন্য গুগলে এত বেশি সার্চ হয়েছে?’
আরো বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দু’বার ৭১ ও ১৬ ভোটে হেরেছি। তখনই ঘোষণা দিয়েছিলাম, ফের কোনো দিন নির্বাচন করলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করব। আর কোনো ছোট ইলেকশন করব না। সেই সুযোগ এবার কাজে লাগাতে চাই। দলীয় মনোনয়ন হাতে নিয়েই বগুড়ায় ফিরব।’গণমাধ্যমে আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের মিডিয়ায় কেউ সেলিব্রেটি হলে, তাকে নিয়ে কথা হবেই। আমি হিরো এটা আমার একটা পরিচয়, আবার রাজনীতি আমার আরেকটা পরিচয়। কেউ কোনোটাকে নেগেটিভলি নেবে আবার কোনোটাকে পজিটিভলি নেবে।’
হিরো আলম বলেন, ‘দেশের মানুষ আমাকে জিরো থেকে হিরো করেছে। আজ মানুষের ভালোবাসার কারণেই আমি এই অবস্থানে এসেছি। আমি যদি এমপি হই তাহলে মানুষের সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে কাজ করে যাব।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘মোদি প্রধানমন্ত্রী হলে আমার বেলায় হিংসা কেন?’এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করবেন বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৪ আসনে। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানার সঙ্গে মনোনয়ন ফরম হাতে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।




