229962

রাজার মৃত্যুতে রাজ্যের মন্ত্রীরা রাজা নির্বাচন করবে, কিন্তু তার একটি শর্ত দিল…

এক দেশের রাজার- এক দেশের রাজার মৃত্যু হয়ে গেল। এখন রাজ্যের মন্ত্রীরা রাজা নির্বাচন করবে, কিন্তু তার একটি শর্ত দিল যে,
যিনি এই রাজ্যের রাজা হবে তিনি এক বছর এই রাজ্যের রাজত্ব করতে পারবে, পরে তাকে এক জঙ্গলে গিয়ে সারা জীবন থাকতে হবে। এই শর্তে কেই ঐ রাজ্যের রাজা হতে চায় না। ঐ রাজ্যে এক রাখাল ছিল, সে ছিল খুব বুদ্ধিমান। সে ঐ রাজ্যর রাজা হতে রাজী হল। সকলে মিলে ঐ রাখালকে রাজা বানালো হলো এক বছরের জন্য। রাখাল করল কি, যেই জঙ্গলে তাকে এক বছর পরে পাঠানো হবে ঐ জঙ্গলে কিছু সৈন্য পাঠালো জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য। এরপর কিছু শ্রমিক পাঠালো মহল তৈরীর জন্য, যেহতু সে রাজা তাই সকলেই তার হুকুম পালন করে। এভাবেঐ রাজা কিছু ঘোড়া, হাতি এমন করে তার রাজ্যের অধিকাংশ জিনিস ঐ রাজ্যে পাঠাতে লাগল।

এক বছর শেষ হওয়ার আগেই তার মহলও তৈরী হয়ে গেল। এবং ঐ জঙ্গল এক নতুন রাজত্যে পরিণত হল যেখানে, সে আজীবন থাকবে। এবং তা আগের রাজত্বের চেয়ে বহুগুণে সুন্দর হল। তাই এক বছর পর যখন তাকে ঐ জঙ্গলে পাঠাবে তখন সে খুশি হয়ে গেল কারণ সে তার ঐ বাসস্থান সাজিয়ে রেখেছে। এভাবেই বন্ধুরা আল্লাহ আমাদেরকে এই দুনীয়াতে অল্প কিছুদিনের রাজত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন যে, এখানে থেকে আখিরাতকে আমল দিয়ে সাজাতে। যদি আমরা আমাদের আখিরাতকে এই দুনীয়া থেকে আমল দারা সাজাতে পারি তবে আমাদের মৃত্যুর সময়ও আমরা ঐ রাজার চেয়েও বেশি খুশি থাকব, কারণ আমাদের জন্যেও অনন্ত কালের জন্য জান্নাত অপেক্ষা করবে।

হযরত ওমর (রা:) যেভাবে সুন্দরী মেয়েদের বলির হাত থেকে রক্ষা করেছিলো

সুন্দরী মেয়েদের বলির- মেয়েদের বলির হাত থেকে- নীল নদ’ হল পৃথিবীর দীর্ঘতম নদ। দৈর্ঘ প্রায় ৬৬৬৯ কিলোমিটার। এটি পৃতিবীর একমাত্র নদ, যা দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত।মিসরের নীল নদ সে দেশের কৃষিকার্যের প্রধানতম উৎস, কিন্তু উক্ত নদ প্রতি বছর শুকিয়ে যেত। তখন সে দেশের অধিবাসীরা প্রাচীন প্রথানুযায়ী একটি সুন্দরী কুমারীকে নীল নদের বুকে বলি দান করতো। ফলে নীল নদ পূর্বের ন্যায় প্রবাহিত হত। এ প্রসঙ্গে বলা যায়- কালের বিবর্তনে নীল নদের পানি ব্যবস্থাপনা জিনদের নিয়ন্ত্রনে চলে যায়।

তারা ফি বছর বা প্রতি বছর নীল নদের পানি আটকিয়ে কৃষককুলকে জিম্মি করে রাখতো। প্রতি বছর একটি সুন্দরী নারীকে নীল নদে বলি দানের বিনিময়ে তারা পানি ছেড়ে দিত। পরবর্তীকালে হযরত ওমর (রাঃ) এর আমলে মিসরে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হয়। সেখানকার প্রাদেশিক শাসনকর্তা হযরত আমর ইবনুল আস (রাঃ) এ অবৈধ কার্যের প্রতি হস্তক্ষেপ করে তা বন্ধ করে দেন। ফলে প্রতি বছরের মত নীল নদের পানি শুকিয়ে যায়।এদিকে নও মুসলিম কৃষকরা সুন্দরী নারী বলি দানের রেওয়াজ চালু রাখবে কিনা, এ ব্যাপারে হযরত আমর ইবনুল আস (রাঃ) এর অভিমত জানতে চাইলে তিনি খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) এর নিকট এক নাতিদীর্ঘ পত্র লেখেন।

পত্র পেয়ে হযরত ওমর (রাঃ) বিস্তারিত অবগত হলেন।নীল নদকে সম্বোধন করে চিঠির অপর পৃষ্ঠায় হযরত ওমর (রাঃ) উত্তর লিখলেনঃ ”ইন কুনতি তাজরী বিনাফসিকি, লা তাজরী। ওয়া ইন কুনতি তাজরী বি আমরিল্লাহ। ” অর্থাৎ ” (হে মিসরের নীল দরিয়া!) যদি তুমি নিজের ইচ্ছায় প্রবাহিত হও, তাহলে তোমার পানি আমাদের প্রয়োজন নেই। তুমি তোমার পানি বুকে ধরে রাখ। আর যদি মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুম মোতাবেক প্রবাহিত হও, তবে পানি ধরে রাখার কোন অধিকার তোমার নেই।” হযরত আমর ইবনুল আস (রাঃ) এ চিঠি নীল নদের বুকে নিক্ষেপ করা মাত্রই নীল নদ জোয়ারের পানিতে সয়লাব হয়ে গেল। আর সেই থেকে আজ পর্যন্ত নীল নদের পানি প্রবাহিত অবস্থায় বিদ্যমান। সুবহানাল্লাহ

ad

পাঠকের মতামত