ছাত্রের জীবন বাঁচাতে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের আকুতি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র তানিন মেহেদী। ছয় মাস আগে ভর্তি হওয়া প্রাণবন্ত ছেলেটি ভুগছে মরণব্যাধি ক্যান্সার ‘সাইনোভিয়াল সারকোমায়’।
বাকি ১০ জনের মতো মেহেদীও অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরিবারে একমাত্র সঙ্গী আছেন তার মা। নিজের এ রোগ ২০১৬ সাল থেকে বহন করে চললেও কাউকে কোনোদিন বলেনি মেহেদী। টিউশনির টাকায় মাকে নিয়ে জীবন চালিয়ে নিলেও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি ছেলেটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর বন্ধুরা জানতে পারে এ মরণব্যাধির কথা। সাংবাদিকতা বিভাগের তারা হারাতে চায়নি মেহেদিকে। তাইতো শিক্ষার্থীরা রাস্তাঘাট, ট্রেন, বাস, বাজার ও দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে মেহেদীর চিকিৎসার জন্য। কেউ কেউ ঈদের সালামি বাঁচিয়েও টাকা নিয়ে আসে।
শুরুর দিকে এ টাকাই যথেষ্ট হবে বলে ধারণা করা হয়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে একটি জায়গায় দুটি অপারেশন করতে হয় মেহেদীকে। যে কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই পাওনা রয়েছে আরো দেড় লাখ রুপি অর্থাৎ আড়াই লাখ টাকা। টাকা পরিশোধ না করলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হবে না। এ ছাড়াও অপারেশন পরবর্তী থেরাপি, ওষুধপত্র এবং ভারতে আরও তিন মাস থাকা (থেরাপির জন্য) বাবদ সব মিলিয়ে আরও প্রায় ছয় লাখ টাকার প্রয়োজন।
এতো টাকা মেহেদির নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। তার সহপাঠী ও সিনিয়ররা এরই মধ্যে সাহায্যের জন্য সারা দেশে ছড়িয়ে যাবার পরিকল্পনা করছে। তার বিভাগের শিক্ষকরা তাদের পরিচিতজনদের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করছেন৷ বিভাগের চেয়ারম্যান তার ফেসবুক টাইমলাইনে আবেগময় হয়ে মেহেদীর চিকিৎসা জন্য সবার কাছে সাহায্য চেয়েছেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হল-
“মেহেদী আমার শিক্ষার্থী। সদাহাস্য মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই ক্যান্সার নিয়ে বসে আছে। ২০১৬ সাল থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরিবারে আছে বলতে মা। পরিণতি জানলেও আর্থিক অস্বচ্ছলতায় চিকিৎসার জন্য আগে বাড়তে পারেনি। ২০১৮ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রায় তিন মাস পর সহপাঠী ও বিভাগের অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মেহেদীর ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানতে পারে। তারা মেহেদীকে বকে। এতদিন কেন তাদেরকে বলেনি, তাই। এরপর মেহেদীকে নিয়ে আমাদের পরিবার গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুদ্ধের শুরু।
আমার শিক্ষার্থীরা রাস্তাঘাট, ট্রেন, বাস, বাজার ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার মতো জোগাড় করে। কেউ কেউ ঈদের সালামি বাঁচিয়েও টাকা নিয়ে এসেছিল। শুরুতে এ টাকাই যথেষ্ট হবে বলে ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু গত ২৬ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে তার অপারেশন শুরুর পর জটিলতা বাড়ে। একটির জায়গায় দুটি অপারেশন করতে হয়।এখন হাসপাতালেই বাকি পড়ে আছে আরও প্রায় দেড় লাখ রুপি।এ টাকা না দেওয়া গেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র মিলবে না।আগামী দু্ইদিনের মধ্যেই আমাদের প্রায় আড়াই লাখ টাকা প্রয়োজন। এ ছাড়াও অপারেশন পরবর্তী থেরাপি, ওষুধপত্র এবং ভারতে আরও তিন মাস থাকা (থেরাপির জন্য) বাবদ সব মিলেয়ে আরও প্রায় ছয় লাখ টাকার প্রয়োজন।
আমার শিক্ষার্থীরা আবার রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু এবার টাকাটা আমাদের দ্রুত প্রয়োজন। খুবই দ্রুত। কিন্তু স্বল্প সময়ে এত বিপুল টাকা শুধুমাত্র রাস্তাঘাট থেকে সংগ্রহ করা দুঃসাধ্য। মেহেদীকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চাইছি। পুরনো কথা, তবুও বলছি। আপনাদের ছোট ছোট সাহায্য আমাদের সুস্থ মেহেদীকে ফেরত দিবে। মাকে ফেরত দিবে তার সন্তানকে।”
চাইলে আপনিও সাহায্য পাঠাতে পারেন মেহেদীকে। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা-
ব্যাংক হিসাব: ইয়াসির আরাফাত
ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড একাউন্ট নং-২৭৩১০৫০৯০৩
ময়নামতি ব্রাঞ্চ,ক্যান্টনম্যান্ট,কুমিল্লা
বিকাশ-০১৭৬৫-৫৬৬৬১৬
রকেট- ০১৭৬৫-৫৬৬৬১৬২
জুমবাংলানিউজ/এএসএমওআই




