223914

শাকিবের জয়জয়কার!

বিনোদন ডেস্ক।। শাকিব খান আগেই জানিয়েছিলেন, গড়পরতা সিনেমায় তিনি আর অভিনয় করবেন না। ‘দশটি ফ্লপ সিনেমা থেকে একটি হিট সিনেমা করবো। আর এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য। শুধু নিজের ক্যারিয়ারের জন্য নয়, একটি হিট সিনেমার ফলে পুরো চলচ্চিত্র শিল্প আর্থিকভাবে লাভবান হয়।’ এই ঈদেও তার ছবির রাজত্ব দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, তিনিই সেরা। তিনি প্রতিবারই প্রমাণ করে দিচ্ছেন ঢালিউডে তিনিই অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক।

এই ঈদে মূলত মুক্তি পেয়েছে তিন সিনেমা। ক্যাপ্টেন খান, মনে রেখো এবং জান্নাত। জানা যায়, তিন ছবির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখছে শাকিব খান ও বুবলী অভিনীত ছবি ‘ক্যাপ্টেন খান’। ছবির নির্মাতা সংস্থা জানায়, বুকিং এবং এমজি (মিনিমাম গ্যারান্টি) সবমিলিয়ে দুই শতাধিক হলে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি।

‘হিরা কাটে হিরাকে, লোহা লোহাকে কাটে আর বেইমান কাটে বেইমান’, শাকিব খানের আওরানো সংলাপটি ভক্তদের মুখে মুখে। ঈদে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘ক্যাপ্টেন খান’ দেখে বের হওয়ার সময় বেশিরভাগ দর্শক এই সংলাপ দিচ্ছেন।

রাজধানীর কয়েকটি হলের খোঁজ নিয়ে জানা যায় তৃপ্তির খবর। যেমন, পূরবী (মিরপুর ১১) সিনেমা হল। সেখানে চলছে ‘ক্যাপ্টেন খান’। জানা যায়, ঈদের দিন থেকে প্রতিটি শো হাউজফুল যাচ্ছে।

কুমিল্লার রুপালী সিনেমা হলের এক কর্মকর্তা জানান, শাকিবের ছবি চালানো মানেই সুপারহিট! ঈদের দিন দর্শক কম ছিল। তবে ঈদের পর থেকে প্রচুর দর্শক আসছে ক্যাপ্টেন খান দেখতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার চেয়ে মফস্বল শহর বরিশাল, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, রংপুর, সিলেটের হলে ক্যাপ্টেন খানের দর্শক বেশি। সেসব জায়গায় ছবিটি ভালো চলছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র বুকিং এজেন্ট সমিতি থেকে এমনটা জানা গেছে।

তবু কিছু আক্ষেপ রয়ে গেছে,‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবিটি ছিল শাকিবময়। শাকিবকে বুদ্ধিদীপ্ত, মারকুটে, রোমান্টিক, নৃত্যপটু হিসেবে দেখানোই যেন পরিচালকের উদ্দেশ্য ছিল। শুধু সংকট যেন একটি মৌলিক গল্পের। দেশের একমাত্র সুপারস্টারকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। অথচ তাকে দিনের পর দিন নকল গল্পে অভিনয় করতে হচ্ছে। দিনের পর দিন নকল গল্প ও ব্যবহারের অযোগ্যতায় একজন সুপারস্টারকে কি নষ্ট করা হচ্ছে না? পরিচালকদের আক্কেল আর কবে হবে? শাকিবের মত অভিজ্ঞ আর নায়ক ইন্ডাস্ট্রিতে এখন দ্বিতীয়টি নেই। কলকাতার পরিচালকদের ক্যামেরায় শাকিবের অভিনয় ঢাকার দর্শক দেখেছেন। বড় পর্দায় ছোট পরিবর্তনটাও চোখ এড়ায় না। শাকিবের জয়জয়কার করে আমরা পরিচালকদের আর কতটা ছাড় দিবো?

‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবিতে অসাধারণ লোকেশন দেখানো হয়েছে। কালার কারেকশন, পোশাকের ব্যবহার, কাহিনির গতি চলচ্চিত্রের উপযোগী। গোলাগুলি ও নাচের সেটগুলোও ছিল চমৎকার। আক্ষেপ ছবিটিতে কেন ছিলনা নিজস্ব একটি গল্প?

২০১৪ সালে তামিল ভাষার গ্যাংস্টার থ্রিলার ‘আনজান’ ছবির হুবহু কপি করতে চাওয়া হয়েছে। ছবির প্রতিটি দৃশ্য ও সংলাপ নকল করা হয়েছে, এমনকি খলনায়ক ইব্রাহিম ভাইয়ের নামটিও। আরও অবাক হতে হবে ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত এ ছবির শুরুতে বলা হয় ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য পরিচালকের নিজের। কিভাবে একজন সিনিয়র পরিচালক হিসেবে তিনি তা দাবি করেন? লজ্জাকর ব্যাপার আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রর। তামিল ভাষার যে ছবিটি থেকে ‘ক্যাপ্টেন খান’ নির্মিত হয়েছে, সেই ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য ভারতীয় পরিচালক নাম্মালভার লিঙ্গুস্বামীর।

আশার কথা, দর্শকের এতদিন অভিযোগ ছিল। সীমান্তের কাঁটাতার পেরুলেই তিনি শিকারী হয়ে যান, নবাব হয়ে ওঠেন, চালবাজের দুর্দান্ত লুক দেখা যায় তার মধ্যে। কিন্ত বাংলাদেশের সিনেমায় তিনি সেই আদি ও অকৃত্রিম শাকিব খানই রয়ে যান। কলকাতার পরিচালকেরা তার সেরাটা বের করে আনতে পারেন, পর্দায় শাকিবকে দেখলেই মনে হয়, নায়ক তো এমনই হবে! অথচ বাংলাদেশী সিনেমাগুলোতে সেই শাকিবকে খুঁজে পাওয়া যায় না একদমই। কিন্তু এই দেশি কলাকুশলী নিয়ে নির্মিত সিনেমায় তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে। উৎস: বাংলা ইনসাইডার

ad

পাঠকের মতামত