ঘুণে ধরা হাসপাতালে ভিড়! বিনামূল্যে ১০ মাসে ৮৪১ অপারেশন
এক যুগ পর এই প্রথম হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও অর্ধযুগ পর অ্যাম্বুলেন্স পুনরায় চালু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবার পাশাপাশি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। অপারেশন থিয়েটার চালুর পর থেকেই চলছে অপারেশন কার্যক্রম। মাত্র ১০ মাসে ৮৪১ টি অপারেশন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও ১৪ বছর পর ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার জন্য মেরামত করা হয়েছে জেনারেটর সার্ভিস।
বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে বেসরকারি ক্লিনিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ। ভিড় করছেন হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে বিনা খরচে মানসম্মত সেবা পেয়ে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ঘুণে ধরা হাসপাতাল পরিবর্তন করার কারিগর হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সলিমুল্লাহ।
তিনি মাত্র ১০ মাসে পাল্টে দিয়েছেন হাসপাতালের চিত্র। উপজেলার সাধারণ মানুষের দোড়গড়ায় পৌছে দিয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা। কর্মদক্ষ এ চিকিৎসককে সবসময় সহযোগিতা করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছেন ডা. রাবেয়া, ডা. মোস্তফা কবির, ওটি ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন, পলি খাতুন, তানজিলা ইয়াসমিন, হাবিবা খাতুন, রবিউল ইসলাম, পলি আক্তার, ওটি এসিসটেন্ট রানা প্রমুখ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ১২জন চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে গাইনী মেডিসিন, অর্থো-সার্জারি , নাক-কান , গলা , চর্ম ও যৌন , এনেসথেসিস্ট ছাড়াও ৪ জন মেডিকেল অফিসার চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। আন্ত:বিভাগে প্রতিবন্ধী, প্রসুতী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা বিছানা, ভর্তিকৃত রোগীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সময়মতো ওষুধ খাওয়ানো, নরমাল ডেলিভেরি। জরুরি বিভাগে আগত রোগীদের সেবা প্রদানের পাশাপাশি মোবাইল কলের মাধ্যমে (০১৭৩০-৩২৪৬২৮) রয়েছে ২৪ ঘন্টা সেবা। আর বহিঃবিভাগে মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি সার্জারি, ইএনটি, চর্ম ও যৌন, ডেন্টাল সেবাসহ চালু আছে আইএমসিআই ও পুষ্টি, ব্রেস্ট ফিডিং, প্রসব পূর্ব সেবা, প্রসব পরবর্তী সেবা কর্ণার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৮ অক্টোবর অপারেশন থিয়েটার চালুর পর এ পর্যন্ত অ্যাপেন্টিক্স, সিজার, হার্নিয়া, পাইলস, ফিস্টুলা, পিত্তথলির পাথর ও জরায়ুর অপারেশনসহ ৮৪১ টি অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতালে সরকারী সুবিধায় এমন সেবায় সন্তুষ্ট উপজেলাবাসী। এতে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে বলে অভিমত সচেতন মহলের।
হাসপাতালে নিজের সফলভাবে হার্নিয়া অপারেশনের বর্ননা দিয়ে মোকামতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন করলে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হতো। তিনি বিনামুল্যে সরকারি হাসপাতালে অপারেশন করায় খুশি।
মোলামগাড়ি এলাকার হতদরিদ্র সুমি খাতুনের সিজার ও আটমুল এলাকার দিনমজুর আক্কাস আলীর হার্নিয়া বিনামুল্যে অপারেশন হয়েছে হাসপাতালে। তারা বলেন, ক্লিনিকে তাদের অপারেশন করার সামর্থ্য ছিল না। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে অপারেশনের সুযোগ পেয়ে তারা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সলিমুল¬াহ আকন্দ বলেন, স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে যোগদানের পর সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে হচ্ছেন। আধুনিক সেবা সরকারিভাবে দিতে গেলে আরো আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন।
হাসপাতালটিতে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও অপারেশন থিয়েটারের উন্নতমানের লাইট সংযোগের প্রয়োজন। এছাড়াও অবকাঠামোগত সমস্যা নিরসন ও জনবল কাঠামো বাড়ানো হলে সকল ধরনের অপারেশন করা সম্ভব হবে।




