223079

মাংস সংরক্ষণের কয়েকটি উপায়

কোরবানি করা হয় মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য। কোরবানির দিন যে পরিমাণ মাংস একবারে ঘরে তোলা হয়, তা বোধহয় সারা বছরও হয় না। ফলে মাংস সংরক্ষণ কঠিন এক বিষয় হয়ে ওঠে। কোরবানির ঈদের আনন্দের একটা বড় অংশজুড়ে থাকে গরু-খাসির মাংস। যাদের ফ্রিজ নেই, কোরবানিতে তাদের টেনশন বাড়ে। আবার অনেকের বাসায় ফ্রিজ থাকলেও জায়গা স্বল্পতার কারণে মাংস সংরক্ষণ নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। যারা এমন সমস্যায় আছেন, তারা কিন্তু ফ্রিজ ছাড়াই সংরক্ষণ করতে পারেন মাংস। তা ছাড়া অতিথিদের আপ্যায়ন আর গরিব-দুঃখীদের মাঝে মাংস বিতরণের পরও মাংস সংরক্ষণ করতে হয়।

মাংস সংরক্ষণ নিয়ে আপনার চিন্তা আর ঝামেলার বোঝা একটু কমিয়ে দিতে আসুন ঘরোয়া পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণের কিছু উপায় জেনে নিই।

চুলায় জ্বাল দিয়ে
চুলায় জ্বাল দিয়ে মাংস সংরক্ষণ এটা বহুল প্রচলিত ও পরিচিত এক পদ্ধতি। চুলায় মাংস জ্বাল দিয়ে তা বেশ কিছুদিন সংরক্ষণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে মাংসের চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। তবে ভালো হয়। চর্বি বেশি থাকলে মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকে। মাংসের পরিমাণ অনুযায়ী হাঁড়ি নিন, তারপর প্রথমে মাংস ভালোভাবে ধুয়ে নিন। যে হাঁড়িতে মাংস বসাবেন তার মধ্যে মাংস ঢালুন, তাতে পরিমাণ মতো লবণ ও হলুদ মেশাতে হবে। এবার পরিমাণ মতো পানি দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। মনে রাখবেন এই মাংস অন্তত দিনে দু’বার জ্বাল দিতে হবে।

রোদে শুকিয়ে
রোদে শুকিয়ে মাংস সংরক্ষণ করা যায়। মাংস লম্বা লম্বা করে কেটে নিন। এরপর এতে লবণ হলুদ মেখে রোদে শুকিয়ে রাখুন। দেখবেন এতে মাংস অনেক দিন ভালো থাকবে। মাংস শুকিয়ে ফেলার পর এতে কোনো পানি থাকে না, ফলে মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

কাঁচা সংরক্ষণ
এ পদ্ধতিতে কাঁচা মাংস কিউব আকারে কেটে নিতে হয়। পরে এতে লবণ মাখিয়ে ক্যানের মধ্যে সংরক্ষণ করতে হয়। এক্ষেত্রে ক্যান অবশ্যই বায়ুমুক্ত হতে হবে। মাংসের ক্যানগুলোকে রোদ থেকে দূরে রাখতে হবে।

ভেজে সংরক্ষণ
মাংস ভেজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। মাংস লবণ আর হলুদ মিশিয়ে ডুবো তেলে ভেজে সংরক্ষণ করতে পারেন।

লবণ ও লেবুর রস দিয়ে সংরক্ষণ
লবণ ও লেবুর রস দিয়ে মাংস সংরক্ষণ করতে পারেন। মাংস বড় বড় টুকরা, কুচি মাংস ও কিমা করে আপনি তা সংরক্ষণ করতে পারেন।

মাংসের গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে তা সংরক্ষণ করার জন্য অবশ্যই সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত।

ad

পাঠকের মতামত