দেয়ালে আঘাত পড়তেই বেরিয়ে এলো কলসি ভরা রুপার মুদ্রা!
দোতলা পুরনো বাড়িটি সংস্কার করা হবে। সে অনুযায়ী দেয়াল ভাঙার কাজ চলছিলো। ৪০ ফুট উঁচু থেকে একটি দেয়াল ভাঙার সময় হঠাৎ ভিতরে থাকা একটি তামার কলসি বেরিয়ে আসে। কলসিটা মাটিতে পড়তেই রুপার মুদ্রাগুলি ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সকালে কলকাতার গোঘাটের মধুবাটীর নাথুরাম মণ্ডলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে জানা যায়, ‘গুপ্তধন’ পাওয়া গেছে এমন খবরে ওই এরাকা তোলপাড়। ভিড় জমে উঠে মুহূর্তে। আসে প্রশাসনের লোকজনও। ৩৩টি রুপার মুদ্রা উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ।
জনা যায়, ৯ বছর আগে হরিশচন্দ্র মণ্ডল নামে এক স্থানীয় কৃষকের কাছ থেকে ওই পুরনো দোতলা মাটির বাড়িটি কিনেছিলেন নাথুরামব। এবার বাড়িটি সংস্কার করার ইচ্ছে তার। রবিবার থেকে শুরু হয়েছিল ভাঙার কাজ। এ দিন প্রায় ৪০ ফুট উঁচু থেকে একটি দেওয়াল ভাঙার সময়ে ভিতরে থাকা তামার কলসিটিও বেরিয়ে নীচে পড়ে।
গোঘাট-২ ব্লকের বিডিও অরিজিৎ দাস জানান, আপাতত ব্রিটিশ আমলের ৩৩টি রুপোর মুদ্রা মিলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনোটি ১৮৭৭ সালের। কয়েকটিতে রাজা পঞ্চম জর্জের প্রতিকৃতি রয়েছে। এর পুরাতাত্ত্বিক গুরুত্ব খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হবে। তবে, ওই কলসিতে আরও কিছু মুদ্রা ছিল বলে দাবি বাড়ি ভাঙার কাজে যুক্ত শ্রমিকদের। তাঁদেরই এক জন বলেন, কলসিটা মাটিতে পড়তেই মুদ্রাগুলি ছড়িয়ে পড়েছিল। যাঁরা জড়ো হয়েছিলেন, তাঁরা অনেকেই কুড়িয়ে নিয়েছেন। আর কারও কাছে ওই মুদ্রা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরিবারকে নিয়ে ওই বাড়ির অবশিষ্ট অংশে বাস করেন নাথুরাম। ঘটনার সময়ে তিনি এবং ছেলে নৃপেন বাড়িতে ছিলেন না। ছিলেন নৃপেনের স্ত্রী মৌসুমি। তিনিই স্বামীকে খবর দেন। নৃপেন দ্রুত বাড়ি ফিরে আসেন। তিনি বলেন, ফিরে দেখি, কলসিতে তখনও ২৯টি মুদ্রা আছে। পুলিশকে দিয়ে দিয়েছি। আরও চারটি মুদ্রা পুলিশ ভিড় করা লোকজনের থেকে উদ্ধার করেছে।




