২০ লাখের কমে কথা বলতে নারাজ ধামরাইয়ের সম্রাট!
রাজধানী ঢাকার অদূরে গ্রামীন অবয়বধারী একটি উপজেলার নাম ধামরাই। এ উপজেলার আমতা ইউনিয়নের নান্দেশ্বরী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা এম এ কুদ্দুছের বাড়িতে প্রতিদিনই বাড়ছে এক শ্রেণির লোকের আনা-গোনা। তারা সবাই কিছু কিনতে চায়, কেউবা উৎসুক দর্শনার্থী। সব আকর্ষণ তার বাড়ির একটি ষাঁড়কে ঘিরে। নাম তার সম্রাট। আর ওজন সাড়ে ৪২ মণ।
সরেজমিনে সম্রাটের মালিক এম এ কুদ্দুছের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, আশেপাশের গ্রাম থেকে আসা লোকজন ভিড় করছেন তার বাড়িতে। তার সাথে সেলফি তুলছেন। আবার সেই ছবি ফেসবুকে আপলোড করছেন। কেউবা দরদাম করছেন।
এরই ফাঁকে কথা হয় এম এ কুদ্দুছের সাথে। তিনি বলেন, তিনি ষাঁড়টিকে ২ বছর ৬ মাস ধরে লালন-পালন করে বড় করেছেন। নাম রেখেছেন সম্রাট। যেটিকে পবিত্র ঈদুল আজহার হাটে বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন।
এম এ কুদ্দুছের ছেলে সেলিম বলেন, সম্রাটের মা ওর ১৭ দিন বয়সে মারা যায়। খুব কষ্টে আমরা পরিবারের ৪ সদস্য ডাক্তারদের সহযোগিতায় ষাড়টিকে লালন-পালন করতে থাকি। সম্রাটকে ২০১৮ সালের ঈদুল আজহার হাটে বিক্রি করার জন্য ২ বছর আগে সিদ্ধান্ত নিই। সেই সাথে ওকে বিশেষ কায়দায় দেশীয় খাবার খাওয়াতে শুরু করি।
তিনি আরো জানান, দিনে দু’বার ঠাণ্ডা পানির সাথে সেম্পু দিয়ে গোসল করানো হয় সম্রাটকে। প্রচণ্ড গরমে দুটি ফ্যান ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা হয়। সেলিম বলেন, সম্রাটের দাম হাঁকানো হয়েছে ২০ লাখ টাকা।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেনারি সার্জন ডা. মো. সেলিম জাহান এ প্রসঙ্গে বলেন, ষাড়টির বর্তমান ওজন সাড়ে ৪২ মণ। ২ বছর ৬ মাসের ষাঁড়টি ৪ দাঁতের। উচ্চতা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি, লম্বা ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি। ওজন ১ হাজার ৭ শ ২ কেজি অর্থাৎ সাড়ে ৪২ মণ।
ডা. মো. সেলিম জাহান বলেন, এম এ কুদ্দুছের ষাঁড়টি ভালো দাম পেলে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকেরা গরু মোটাতাজাকরণে উৎসাহী হবেন।




