স্বামীর পরিবারের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে গৃহবধূ ও তার পরিবার
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা করার পর প্রভাবশালী স্বামীর পরিবারের হুমকির মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে গৃহবধূসহ তার পরিবার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ জুলাই দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মোরশেদ আনামের সাথে বিয়ে হয় দেবহাটা কোমরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে মারুফা খাতুনের। বিয়ের পর তারা ঘর সংসার করতে থাকেন। এর এক বছর যেতে না যেতেই স্বামী ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। মেয়ের পিতা গরিব হওয়ায় যৌতুকের টাকা দিতে পারবে না বললে তার উপর শুরু হয় নির্যাতন। যৌতুকের দাবিতে গত ১৯ শে জুন স্বামী মোরশেদ আনাম, শ্বশুর আব্দুল মালেক, শাশুড়ি নাজমুন নাহার এবং দেবর মাসুদ কামাল তাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন।
ওই গৃহবধূ জানান, এর পরদিন আমি দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারাত্মক আহত অবস্থায় ভর্তি হই। সেখানেও আসামিরা আমাকে জীবননাশের হুমকি দেয়। আমি সেখান থেকে পালিয়ে অন্যত্র চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করি। এরপর গত ২৪ জুন আমি আসামিদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করি। লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করার পর তারা প্রকাশ্য আমার জীবননাশের হুমকি দেয় এবং বলে ১০ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে তার সাথে ঘর-সংসার করবে না।
মারুফা খাতুন আরও জানান, তিনি প্রতিকার চেয়ে গত ১২ জুলাই দেবহাটা পারিবারিক আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। মামল নং পারিবারিক ১৪/২০১৮। পরে গত ১৯/০৭/১৮ তারিখে নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট আদালতে ওই আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। যার নং পি৭০০/২০১৮। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করি যার নং পিটি ৩৭০/১৮। বর্তমানে মামলাগুলো বিচারাধীন আছে।
মারুফা খাতুন আরও বলেন, ২০১৩ সালে সখিপুর কেবি কলেজে এইচএসসি পড়াকালীন সময়ে মোরশেদ আনামের সাথে আমার সম্পর্ক হয়। তার সাথে আমার সম্পর্ক ও ভালোবাসার কথা সবাই জানতো। আমাদের ও তাদের বাড়িতে আমাদের দুজনের অবাধ যাতায়াত ছিল। এলাকার সবাই জানত আমাদের সম্পর্কের কথা। ভালোবেসে ২/৭/২০১৭ তারিখে সাতক্ষীরা কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে হয়। এরপর আমার বিবাহের পর আমার স্বামীর সেনাবাহিনীতে চাকরি হয়। স্বামীর চাকরি হওয়ার পর স্বামীসহ তার বাড়ির লোকজন আমাদের বিয়ে অস্বীকার করতে থাকে এবং বলে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দিতে হবে। বর্তমানে আমার স্বামী ঢাকায় সামরিক বাহিনীতে কর্মরত আছে।
স্বামী মোরশেদ আনামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মারুফার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে এবং তাকে নিয়ে আমি ঘর-সংসারও করেছি। কিন্তু সে কোনো কিছু না জানিয়ে আমার পরিবার ও আমার নামে মামলা দায়ের করেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসাবসি হয়েছিল কিন্তু তারা আসেনি বা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টাও করেনি।




