222842

এবার আইসক্রিমের বাক্সে মিললো নবজাতক, দত্তক নিলো পুলিশ সদস্য

আইসক্রিমের বাস্কের ভেতর থেকে ভেসে আসছিল কান্নার শব্দ। বাড়ির পেছনে দুটি শিশু ছুটে গিয়ে সেই আইসক্রিমের বাক্স খুলতেই তারা দেখতে পেল রক্তমাখা একটি নবজাতক ছেলে। শিশুরা বাড়ির মধ্যে গিয়ে ভাড়াটিয়াদের জানালে তারা উদ্ধার করে শিশুটি। রোবাবার বিকেলে মুসলিমনগর পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত হযরত আলী মাদবর ও সিদ্দিকের বাড়ির মাঝখানে পরিত্যাক্ত জায়গা থেকে শিশটিকে উদ্ধার করে বাড়ির ভাড়াটিয়ারা। এসময় সিদ্দিক মিয়ার ভাড়াটিয়া বাড়ির টয়লেটের ভেন্টিলেটরসহ কয়েকটি স্থানে রক্তের দাগও দেখতে পায় এলাকাবাসী। তবে নবজাতকটি কার ঘরে জন্ম নিয়েছিল তা নিশ্চিত হতে পারেনি কেউ।

ফুটফুটে একটি ছেলে শিশু। তার পিতৃ বা মাতৃ পরিচয় নেই। শিশুটির নাড়ীও ঠিক মতো কাটা ছিল না। শরীরে লেপ্টে ছিল ভূমিষ্ট হওয়ার মায়ের রক্ত। শিশুটিকে মুসলিমনগর পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত হাজী হযরত আলী মাতবর ও সিদ্দিক মিয়ার বাড়ির মাঝখান থেকে উদ্ধার করে বেশ কয়েকজন। তাকে উদ্ধার করে তার নাড়ী কাটে হান্নান মিয়ার স্ত্রী। এসময় শিশুটি ক্ষুধার কারণে কান্না করছিল। বাড়ির ভাড়টিয়া হান্নানের স্ত্রী কয়েকদিন আগে বাচ্চা প্রসব করেছেন। সেই হান্নানের স্ত্রীর বুকের দুধ শিশুটি প্রথম পান করেছে রোববার বিকেলে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের পিপিএম বলেন, শিশুটিকে যারা জন্মের পরে ফেলে দিয়েছে তারা বনের পশুকেও হার মানিয়েছে। শিশুটির বৈধ কোন অভিভাবক পাওয়া যায়নি। বেশ কয়েকজন শিশুটিকে নিতে চেয়েছিলেন। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য ময়েজকে অন্যদের চাইতে অভিভাবক হিসেবে যোগ্য মনে করা হয়েছে। তাই জিডি মূলে তাঁর কাছে শিশুটিকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। বাবা-মায়ের দায়িত্ব তারা পালন করবে বলে অঙ্গিকার করেছেন। শিশুটিকে একজন চিকিৎসক দেখানোর জন্য ময়েজকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত