222910

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: যোগ্যতা, পরীক্ষা পদ্ধতি ও আবেদন প্রক্রিয়া

সম্প্রতি সারা দেশে (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ব্যতীত) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ৩০ আগস্ট শেষ হবে এ পদে আবেদনের সময়সীমা। আবেদনের আগে জেনে নিন নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি, যোগ্যতা এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে www.dpe.gov.bd এবং dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে।

যোগ্যতা: সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। পার্বত্য তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না। বাকি ৬১টি জেলার পুরুষ ও নারী উভয় প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন। পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক। নারীদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএসহ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস।

বয়সসীমা: ৩০ আগস্ট ২০১৮ তারিখে সাধারণ প্রার্থীদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা চাওয়া হয়েছে ৩২ বছর।

নম্বর: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক এবং প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়বস্তু বিগত বছরের মতোই হবে। তবে এবার প্রশ্নের মান উন্নত হবে। আগে লিখিত পরীক্ষায় মাধ্যমিক পর্যায় থেকে প্রশ্ন করা হলেও এবার উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকেও প্রশ্ন আসবে। ৮০ নম্বরের লিখিত এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষাসহ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি-

প্রশ্নসংখ্যা: বহু নির্বাচনী বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে নেয়া হবে লিখিত পরীক্ষা। প্রশ্ন করা হবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে। প্রতিটি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৮০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে ১।

নেগেটিভ মার্কিং: এই পরীক্ষায়ও থাকছে নেগেটিভ মার্কিং। অর্থাৎ একটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ০.২৫ নম্বর। ফলে চারটি প্রশ্নের ভুল উত্তর দিলে ১ নম্বর কাটা যাবে। তাই সতর্কতার সাথে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

সময়: এমসিকিউ প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৮০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নে পাওয়া যাবে এক মিনিট। যে প্রশ্নগুলো সহজেই উত্তর করা যায়, তা শুরুতেই দাগিয়ে ফেলতে হবে। কোনো প্রশ্নে বেশি সময় নষ্ট করা যাবে না, কঠিন প্রশ্নগুলো রেখে দিতে হবে পরে উত্তর করার জন্য।

(dpe.teletalk.com.bd) মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আবেদনপ্রক্রিয়া। আবেদন করা যাবে ৩০ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। অনলাইন আবেদন ফরমে ধারাবাহিকভাবে নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, কোটা আছে কি না, জাতীয়তা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর পূরণ করতে হবে। জন্ম তারিখ জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিল রেখে দিতে হবে। কোটার ঘরে যেসব প্রার্থীর মা-বাবা অথবা স্বামী বা স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন, তাদের নির্ভরশীল (ডিপেনডেন্ট) ঘরটি নির্বাচন করতে হবে। তিনি সর্বশেষ যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন, তার নাম এবং প্রার্থীর সঙ্গে তার সম্পর্ক উল্লেখ করতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের মুক্তিযোদ্ধার নাম, মুক্তিযোদ্ধা সনদ নম্বর, ঠিকানা এবং প্রার্থীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক লিখতে হবে। বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার ঘরে জেলা, উপজেলা নির্বাচন করতে হবে এবং বিস্তারিত ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

পরের ধাপে আগের পৃষ্ঠায় দেওয়া তথ্যগুলো দেখা যাবে। সব তথ্য ঠিক আছে কি না ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। কোনো তথ্য পরিবর্তন করতে হলে সংশোধন বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণের পর প্রার্থীর রঙিন ছবি এবং স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। ছবির আকার হবে ৩০০x৩০০ পিক্সেল এবং ফাইল সাইজ সর্বোচ্চ ১০০ কেবি। স্বাক্ষরের আকার ৩০০x৮০ পিক্সেল এবং ফাইল সাইজ হবে সর্বোচ্চ ৬০ কেবি। ছবি ও স্বাক্ষর আপলোডের পর সব তথ্য ঠিক আছে কি না তা পুনরায় দেখে নিতে হবে। তথ্য ঠিক থাকলে ওপরে দেয়া সব তথ্য ঠিক আছে নির্বাচন করে আবেদন সাবমিট করতে হবে। সাবমিটের পর ইউজার আইডি, ছবি ও স্বাক্ষরযুক্ত অ্যাপ্লিকেন্ট কপি পাওয়া যাবে। পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করতে হবে।

অনলাইন আবেদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল থেকে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। ফি জমা দেয়ার পর ফিরতি এসএমএসটি পরবর্তী সময়ে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে কোনো কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

ad

পাঠকের মতামত