‘আমার মেয়ের মাথা ও মুখমন্ডল ভয়ংকর’
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের রোকনউজ্জামানের মেয়ে জান্নাত। দিনমজুর রোকনউজ্জামানের সংসারে ৫ বছর আগে ঘর আলো করে আসে একটি কন্যা সন্তান। তার নাম রাখে জান্নাত।
বিকৃত চেহারার কারণে কেউ জান্নাতের কাছে যেতে চাই না। তার বয়সী বাচ্চারা জান্নাতকে দেখে ভূত বা দৈত্য বলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
দুই বছর বয়সে জান্নাতের চোখের ওপরে ছোট গুটি দেখা যায়। আস্তে আস্তে মুখমন্ডলের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে গুটিগুলো। দিনে দিনে গুটিগুলো পুরোমুখ বিকৃত করে তোলে।
রোকনুজ্জামান বলেন, আমার মেয়ের মাথা ও মুখমন্ডল ভয়ংকর হয়ে ওঠার দৃশ্য দিনে দিনে আমি দেখেছি। কিন্তু আর্থিক অভাবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য আমি সকলের সাহায্য কামনা করছি। আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য আমি সকলের সাহায্য
বিকৃত মুখ নিয়ে জান্নাত বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে খেতে পারে না। কোনো রকমে তরল খাবার খেয়েই জীবন বাঁচিয়ে রেখেছে শিশুটি। রোগের কারণে ঠিকমত চোখেও দেখতে পারে না সে।
সে সময় স্থানীয় চিকিৎসককে দেখালে ক্ষত হয়েছে বলে এ্যান্টিবায়োটিকসহ নানা ধরনের ঔষধ দেন। কুষ্টিয়া শহরসহ অনেক জায়গায় চিকিৎসা করালেও জান্নাত সুস্থ হয়ে ওঠেনি। দিন দিন বেড়েছে গুটির আকৃতি।
মেয়ের এমন অবস্থায় নিজের সব কিছু বিক্রি করে এখন নিঃস্ব দিনমজুর রোকনউজ্জামান। শেষ সম্বল (কিছু জমি) বিক্রি করে কোনো রকমে চলছে জান্নাতের চিকিৎসা। বিরল এই রোগ থেকে তার মেয়ের মুক্তি চান তিনি।
এক বছর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলেও বিরল রোগের কোনো চিকিৎসা নেই বলে জানিয়ে দেন চিকিৎসকরা।




