222517

নেতারা কথা বেশি বলে, কাজ তেমন করে না: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সময়টা ভালো নয়। আমি আমাদের নেতৃবৃন্দের কাছে, আমার সহকর্মীদের কাছে বিনীত অনুরোধ করব, যার যার সীমানা পেরিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেবেন না। সরকারকে বিব্রত করে- এমন বক্তব্য কেউ দেবেন না। দল, সরকার বিব্রত হয় এমন কোনো কথা দয়া করে কেউ বলবেন না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, মন্ত্রীরা বিদেশ যেতে চায়। নেতারা কথা বেশি বলে, কাজ তেমন করে না। বর্তমান নেতাদের বঙ্গবন্ধুর সেই উক্তি স্মরণ করার অনুরোধ করছি।

সহকর্মীদের ‘হোমওয়ার্ক’ করার পরামর্শ দিয়ে কাদের বলেন, পলিসির ব্যাপারে নেত্রীর সঙ্গে আলাপ করে কথা বলবেন, ফ্রিস্টাইল কথা বলা যাবে না।

শনিবার সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি আশা করি, আমাদের সরকারি পদে আমরা যারা মন্ত্রী আছি, আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত, যারা নেতারা আছেন, ভাষণ না দিয়ে কাজের দিকে মনযোগ দিন। বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। যারা নেতা আছেন ভাষণ না দিয়ে ভালো কাজের দিকে মনোনিবেশন করবেন। ভালো থাকবেন চরিত্রবান হবেন সেটাই বড় বিষয়।

পোস্টার ব্যানার ফেস্টুনে ছবি দিয়ে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া যাবে না-এমন মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে নিজের ছবি দিয়ে আত্মপ্রচার বন্ধ করতে হবে। এই ছবি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন। বঙ্গবন্ধুকে ব্যবহার করে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে আত্মপ্রচারে যারা নিমগ্ন তাদের রাজনীতির কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন আছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, প্লিজ এটা দেখবেন। একজন এমপি, তার বাড়ি ঢাকা থেকে অনেক দূরের একটি দ্বীপে, তিনিও ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর পাশে ছবি দিয়ে পোস্টার বিলবোর্ড করেছেন। কেন? যারা বাইরে তারা এখানে কেন ছবি দিচ্ছেন? এটা কি তাদের নির্বাচনী এলাকা? প্লিজ এইসব প্র্যাকটিস বন্ধ করুন। ইলেকশন সামনে। নেতারা এই পথে আসে যায়। দেখবেন, এইসব বন্ধ করুন।

কাদের বলেন, নমিনেশন পাওয়া যাবে জনগণের সেবা করে, জনগণেন মন জয় করে এটা আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই।

দেশের রাজনৈতিক চিত্র ‘অতি দ্রুত’ বদল হবে- বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, কীভাবে বদল হবে? কেন বদল হবে? কি কারণে বদল হবে? মওদুদ সাহেবের কী ম্যাজিক আছে যে ম্যাজিক দিয়ে তিনি রাজনীতি বদল করবেন।

জনগণের রায়ের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতা বদলের ‘খোয়াব’ দেখলে তা অচিরেই ‘কর্পুরের মত হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিদেশে বসে কারা কোথায় কার সঙ্গে বৈঠক করছে- সব খবরই ‘নলেজে আছে’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ধৈর্য্য ধরে আছি। মনিটর করছি, আরও খোঁজ খবর নিচ্ছি। সময়মত আমরা ব্যবস্থা নেব।

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি কী নিজেদের পাগলা কুকুর ভাবছে? সেই কারণে ভয় পাব। বিএনপি যদি নিজেদের পাগলা কুকুর ভাবে তাহলে আওয়ামী লীগ নয়, দেশবাসী আতঙ্কে থাকবে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংলাপের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে সরকার পতনের আন্দোলন করবেন। অশুভ কার্যকলাপ করবেন আর মুখে সংলাপের কথা বলবেন। আপনাদেরকে ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করতে হবে। তারপর সরকার ভেবে দেখবে আলোচনায় বসা যায় কী না।

শিক্ষার্থীদের দাবিকে সরকার পতনে আন্দোলনে রূপান্তর করতে বিএনপি জামায়াতের অশুভ শক্তি এবং ১/১১ কুশীলবরা হঠাৎ করে তৎপর হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন হানিফ।

তিনি বলেন, কী কারণে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করা হলো? কারা নেতৃত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে হামলা করতে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছিল। আজ আমাদের হাতে সেই তথ্য এসেছে। প্রায় ৪-৫শত বিভিন্ন আইডির মাধ্যমে নানান ধরণের মিথ্যাচার করে ছাত্রদের উস্কিয়ে দেয়া হয়েছিল।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছারের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ নাথ প্রমূখ বক্তব্য দেন।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, সরকার কে বদলাবে? জনগণ। জনগণ কি আপনাদের চায়? নয় বছরে জনগণ আপনাদের ডাকে সাড়া দেয় নাই, তারপরও বোঝেন নাই। আজকে বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির দিন শেষ। আর সুযোগ নাই। দেশের জনগণকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানানোর সুযোগ নাই আর।

বিকালে একই স্থানে আরেকটি কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে আলেচানা সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

ad

পাঠকের মতামত