222029

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: যা বলছেন ৬ মন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক।। রাজধানীতে গত ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। উত্তরাগামী জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস মিরপুর ফ্লাইওভার থেকে নেমে অপর একটি বাসের সঙ্গে পাল্লা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ নিহতের ঘটনায় আন্দোলনে নেমেছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। সপ্তম দিনের মত তারা আন্দোলন করছে। সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ছাত্রদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্ত ছাত্র তাদের কথায় কর্ণপাত না করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনা সামাল দিতে যা বললেন ৬ মন্ত্রী।

আইন পাস হলে কাজ শুরু, সময় দাও : শিক্ষার্থীদের কাদের

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন পাস হলেই কাজ শুরু হবে।’ ১ আগস্ট বুধবার রাজধানীর সেতু ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার যৌক্তিকতা আছে। এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। দুই সহপাঠীকে হারিয়ে তারা সড়কে নেমেছে, তাদের এই বিক্ষোভ- ক্ষোভের বাস্তবতাও আছে। দুই সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে এর জন্য সবার খারাপ লেগেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত, আমরা সবাই তাদের জন্য কষ্ট পেয়েছি। তারপরও আমি শিক্ষার্থীদের বলব, একটু ধৈর্য ধরো, সময় দাও।’

আগামী সপ্তাহে প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইন অনুমোদনে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে নৈরাজ্য নেই, তবে কিছু বিশৃঙ্খলা আছে। আইন পাস হলে এগুলো দূর করা হবে। আইন হলে যানজট ও সড়কের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘নৌপরিবহনমন্ত্রী নিজেও তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা আইন পাস হলেই কাজ শুরু হবে। দুর্ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটু সময় দিন। যারা দোষী, তাদের ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই দুর্ঘটনার পর নৌমন্ত্রীকে ডেকে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য দিয়েছেন। তাকে অনেক কিছু বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী কোনো বক্তব্য দেওয়ার পর এই ব্যাপারে আমাদের আর কথা বলা ঠিক না।’

তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই যারা গাড়ির মালিক, তারা তো গাড়ি বের করবেন না এটাই স্বাভাবিক। গতকালও গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি শিগগিরই কেটে যাবে। সবকিছু স্বাভাবিক হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নৌপরিবহনমন্ত্রী বাধা না। এটা বাস্তবায়ন করবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এখানে নৌ মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই। তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।’ ক্লাসে ফিরে যাওয়ার জন্য ছাত্রদের আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

শিক্ষামন্ত্রীর শোক, শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও মর্মবেদনা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনায় সহপাঠীর মৃত্যুতে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আমরা শিক্ষা পরিবারের সবাই শোকার্ত।

নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে বুধবার (০১ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক এক সভায় তিনি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানান। সভায় শিক্ষাসচিব মো.সোহরাব হোসাইন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন যে, ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সড়ক পরিবহনকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং দোষীদের গ্রেফতার করেছে। সংশ্লিষ্ট দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সভায় মন্ত্রী শোকার্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে শোক সংবরণ করে শান্ত থাকা ও ধৈর্য ধারণের জন্য আহ্বান জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যদেরকে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে শিক্ষা কার্যক্রমে সহয়োগিতা করার জন্য ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।

রাজধানীতে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা হবে : আইনমন্ত্রী

রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে জানিয়েছেন আইন মন্ত্রী আনিসুল হক। এ সময় সব সড়ক দুর্ঘটনার বিচার দ্রুত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যারা দোষী কেবল তাদেরই শাস্তি হওয়া উচিত।’ ১ আগস্ট বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় নিহত দুই শিক্ষার্থীর আত্মার মাগফেরাত কামনা ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান আইনমন্ত্রী।

আনিসুল হক বলেন, ‘কিছুদিন যাবৎ (বছর খানেক) সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক রকমভাবে এই সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে। তাই যে সব কারণে (রাস্তার কারণে, গাড়ির কারণে, মানুষের চলাচলের কারণে, চালকের কারণে ইত্যাদি) সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে, সেগুলোর ব্যাপারে আইনে পর্যাপ্ত বিধান রাখা হয়েছে কি না কিংবা দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সে রকম পর্যাপ্ত বিধান আইনের মধ্যে আছে কি না এবং আইনে কোনো ফাঁক-ফোঁকর আছে কি না সেই সব পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখে সড়ক পরিবহন আইনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।’

আইনমন্ত্রী মনে করেন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ হবে অত্যন্ত আধুনিক। তার কারণ হচ্ছে এই আইনে অনেক বিষয় আছে যেগুলো আগের কোনো আইনে এড্রেস হয়নি। তিনি বলেন, ‘বিদেশে চালকের ভুলের কারণে যেমন পয়েন্ট কাটা যায় নতুন সড়ক পরিবহন আইনেও তেমনি বিধান রাখা হয়েছে। এজন্য বার পয়েন্ট রাখা হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ড্রাইভার অপরাধ করলে তার পয়েন্ট কাটা যাবে। যদি কোনো ড্রাইভারের ১২ পয়েন্ট কাটা যায় তা হলে সে আর কোনোদিন ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবে না। কত পয়েন্ট কাটলে কি পরিমাণ শাস্তি হবে আইনে তা বলা আছে। কেউ যাতে কম অপরাধে বেশি শাস্তি এবং বেশি অপরাধে কম শাস্তি না পায় সেগুলো সুনিশ্চিতভাবে আইনে সন্নিবেশ করা হয়েছে। ৩ পয়েন্ট কাটলে কী হবে- এ রকম বিধানও করে দেওয়া হয়েছে। বিচারের তাৎক্ষণিকতা বা তড়িৎ বিচারের ব্যবস্থা’ এই আইনের মধ্যে করা হয়েছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘আইনটা মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হবে, প্রধানমন্ত্রী চান এটা তড়িৎ উপস্থাপিত হোক। সেই ক্ষেত্রে আমার মনে হয় এই আইনটা যদি অনুমোদিত ও সংসদে পাস হয় তাহলে আমার ধারণা সব স্টোকহোল্ডার ন্যায়বিচার পাবেন। এখন কেউ যদি মনে করেন যে মানুষ মেরে তারা কম শাস্তি নিয়ে চলে যেতে পারবেন, এটা তো হয় না। আবার এটাও ঠিক একজনের ভুলের জন্য সবাইকে দায়ী করাও ঠিক না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘যে ভুল করেছে তার বিচার করা উচিত, কিন্তু সম্প্রদায়কে দায়ী করা ঠিক হবে না। সেগুলো বিচার-বিবেচনা করে আমার মনে হয় এই আইনটা যথপোযোগী এবং সবকিছু অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখে আইনটি পাঠিয়েছি।’

শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রাজধানীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সব দাবি সামনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় সন্তানরা রাস্তা থেকে উঠে আসুক, একটা স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসুক।’

১ আগস্ট বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাস মালিক ও পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সবগুলো দাবি আমরা ইমপ্লিমেন্ট (বাস্তবায়ন) করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাদের দু-একটি দাবি যেগুলো আমাদের কাছে আসছিল, “ফিটনেসবিহীন, রুট পারমিটবিহীন গাড়িগুলো, ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকরা যাতে গাড়ি চালাতে না পারে তার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।” আমরা সবাই যারা আজ এই মিটিংয়ে বসেছিলাম, সবাই আমরা এক মত।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তাবাহিনী রাস্তায় থাকবেন, তাদের যেটাই সন্দেহ হবে তাকেই চ্যালেঞ্জ করবেন, যদি (গাড়ির কাগজ) না দিতে পারে তাহলে সেখানেই তাদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের আহ্বান করব, তোমাদের যে সমবেদনা সারা দেশব্যাপী তারা এই ম্যাসেজটা পৌঁছিয়েছে, এ জন্য আমরাও ব্যথিত। আমরা অনুরোধ করব, তোমাদেরকে, তোমাদের দাবি সবই মানা হয়েছে, যারা ঘাতক, যারা অন্যায় করেছে তারা আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে পায় সেই ব্যবস্থাটা আমরা করছি।’

আপনাদের বাচ্চাদের আর রাস্তায় পাঠাবেন না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের থামাতে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দয়া করে আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের আর রাস্তায় পাঠাবেন না। এতে আপনারাসহ সারা দেশবাসী
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আপনারাই আপনাদের বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যেতে পারছেন না। একটি অন্যায়কে আরেকটি অন্যায় দিয়ে প্রতিবাদ করা যায় না।

১ আগস্ট বুধবার ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে ৭ দিনব্যাপী ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০১৮’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, যারা নিরপরাধ ফুলের মত পবিত্র শিশুদের ওপর বাস চালিয়ে দিয়েছে আমি তাদের তীব্র নিন্দা করি এবং এ অপরাধীদের বিচারের দাবি জানাই। এ অপরাধীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে, কারণ কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

শাজাহান খান দুঃখিত ও বিব্রত

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, তাঁর হাসি যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে তিনি দুঃখিত। বিষয়টিতে তিনি বিব্রত। ৩১ জুলাই বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনে (বিসিআইসি) শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। শাজাহান খান বলেন, সেদিন তিনি মোংলা বন্দর নিয়ে এক চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ছিলেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকেরা দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন করতে থাকলে তিনি সে ব্যাপারে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি, সাংবাদিকদের বলা হয়েছে অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রশ্ন করতে। সাংবাদিকদের কথার ওপর ভিত্তি করেই তিনি হেসে ফেলেন। তাঁর হাসি যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে তিনি দুঃখিত।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমার ভুল হচ্ছে আমি হাসি। যারা হাসে তাদের মানুষ ও সৃষ্টিকর্তা ভালোবাসেন। এখন আমার হাসা যদি ভুল হয়, তাহলে আমি আর হাসব না।’  উৎস: আমাদের সময়.কম।

ad

পাঠকের মতামত