221885

অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে নিয়ে বারবার কুপ্রস্তাব, এরপর…

গফরগাঁও কারিগরী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জোয়াহেরুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শিউলি বেগম। এ ঘটনায় শিউলি বেগম বাদী হয়ে গত ১৬ জুলাই গফরগাঁও থানায় একটি মামলাও দায়ের করেন।

গফরগাঁও থানার ওসি আবদুল আহাদ খান জানান, প্রাথমিক তদন্তে যৌন হয়রানির বিষয়টি পাওয়া গেছে তবে তদন্ত শেষে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিউলি বেগম বলেন, অধ্যক্ষ জোয়াহেরুল ইসরাম মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে গত ২৮ জুন ২০১৬ কলেজ পরিচালনা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। ওই সময় কমিটির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেছিল অধ্যক্ষ। এরপর তিনি আবারও চিরকুটসহ নানা ভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক বছর আগে কলেজ ক্যাম্পাসে চাকু দিয়ে নিজের হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ বিষয়টি কলেজের শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা অবগত আছে। এরপরও তিনি যৌন হয়রানি করেই গেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ নভেম্বর ২০১৭ কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমানের সাথে দেখা করে যৌন হয়রানির বিষয় অবহিত করি। এ বিষয়ে সভাপতি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে অধ্যক্ষকে সহায়তা করে আসছেন।

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনায় তার গুন্ডাবাহিনী দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। এসব ঘটনায় কোন প্রতিকার না পেয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা দায়ের করি। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গফরগাঁও কারিগরী স্কুল এন্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান জানান, শিউলি বেগম কলেজে যোগদানের পর থেকেই অধ্যক্ষ জোয়াহেরুল ইসলাম মোল্লা তার প্রতি কুদৃষ্টি দিয়ে আসছে। তাকে বিভিন্ন সময়ে অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে নিয়ে নানাভাবে যৌন হয়রানি করেছে এ বিষয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা জানেন।

এর আগে তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চাকু দিয়ে নিজের হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টার কথা সবার মুখে মুখে। বর্তমান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমানের সহযোগিতা নিয়ে কলেজে দুর্নীতিসহ শিউলি বেগমের সাথে যৌন হয়রানি করে আসছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কলেজের অধ্যক্ষ জোয়াহেরুল ইসলাম মোল্লার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ দিকে অভিযোগের বিষয়ে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান জানান, এ বিষয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানে কলেজ পরিচালনা কমিটি অধ্যক্ষ জোয়াহেরুল ইসলাম মোল্লা ও অভিযোগকারী শিউলি বেগমকে রেজিস্ট্রি অঙ্গীকারনামা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে শিউলি বেগম অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের চেষ্টা মামলা করায় এখন আইনী ব্যবস্থাসহ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা হবে বলে জানান তিনি।

ad

পাঠকের মতামত