221556

ওরা তো বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল, মৃত্যু হলো কেন?

অন্য আর পাঁচটা দিনের মতোই দিয়া যখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখন তার হাতে ছিল একটি বাহারি রঙের ছাতা। রোদ/বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য তার মা ছাতাটি তাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎই গাড়ি চাপায় সব শেষ। ফ্লাইওভারের গা ঘেষে পড়ে যায় ‘রক্তাক্ত দিয়ার’ নিথর দেহ, পাশেই পড়েছিল সেই ছাতাটি। অন্যদিকে নাড়িভুড়ি বের হয়ে পড়ে ছিল নিহত করিম।

এভাবেই বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী- দিয়া আখতার মিম (১৭) এবং আবদুল করিমের (১৮), মর্মান্তিক এ মৃত্যুর বর্ণনা দিচ্ছিলেন একই কলেজের শিক্ষার্থী তিশা।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের বিপরীতে (এমইএস বাসস্ট্যান্ড) এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন আরও ১৪ জন যাদের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কুর্মিটোলা হাসপাতালে মামা সেলিম মিয়ার কাঁধে মাথা রেখে কান্না করতে করতে মীমের বড় বোন রোকেয়া খানম বলেন, ‘আমার বোনের সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই, আমাকে তোমরা তার কাছে নিয়ে যাও। সকালে কলেজে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। আমি তার সঙ্গে একটু কথা বলবো।’

মেয়ে দিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ছুটে আসেন বাবা জাহাঙ্গীর ফকির। তিনি নিজেও পেশায় গাড়িচালক। ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের একতা পরিবহনের ড্রাইভার জাহাঙ্গীর। রোববার ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু মেয়ের মৃত্যুসংবাদ তাকে টেনে আনে হাসপাতালে।

দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর ফকির বলেন, ‘আমি একজন গাড়িচালক, একই সঙ্গে বাবাও। এভাবে যারা গাড়ি চালায় তাদের ফাঁসি হওয়া উচিত। যেসব মালিকরা এসব গাড়িচালক নিয়োগ দিয়েছে, সরকারের তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ঢাকায় গাড়ি চালায়, তারা অদক্ষ। এরা আগে সিএনজি অটোরিকশা চালাত। গাড়ির মালিকরা লাইসেন্স ছাড়াই এদের চালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।’

জাহাঙ্গীর ফকিরের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে দিয়া দ্বিতীয়। তারা স্বপরিবারে মহাখালী দক্ষিণ পাড়ায় থাকেন।

শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তাদের সহপাঠী ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। তারা কুর্মিটোলা হাসপাতালে এসে ভিড় করেছে।

সহপাঠীদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল-আমিন নামে এক ছাত্রসহ আরও অনেকে বলেন, তারাতো কলেজ শেষ করে বাসায় যাওয়ার জন্য রাস্তার পাশে বাসের অপেক্ষা করছিল। এমন যদি হতো তারা রাস্তা পার হচ্ছে, বাসচাপায় মৃত্যু, তাহলে মেনে নিতাম। তারা তো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল বাসের অপেক্ষায়, তাহলে কেন বাসচাপায় তাদের মৃত্যু হলো?

ad

পাঠকের মতামত