220632

একই পরিবারের ১১ সদস্যের আত্মহত্যার দৃশ্য সিসিটিভির ফুটেজে! (ভিডিও)

একই পরিবারের ১১ সদস্য গত শনিবার রাতে একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছিলেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। খবর এবেলার।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত তখন ১০টা ১৫ মিনিট বাজে। দিল্লির বুরারি এলাকায় একটি ভাটিয়া পরিবারের ধ্রুব (১২) ও শিবম (১৫) স্থানীয় একটি দোকানে যায়। সেখান থেকে দড়ি নিয়ে আসে তারা। আর পরিবারের অন্য সদস্যরা গণআত্মহননের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একে একে টুল আর দড়ি জমা করা হচ্ছিল বাড়িতে। গণআত্মহননের জন্য যে টুল ও দড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো ওই রাতেই সংগ্রহ করতে দেখা গেছে সিসিটিভি ফুটেজে। সিলিংয়ের রড থেকে ঝোলার সময় এই দড়ির সাহায্যই নিয়েছিলেন আত্মহত্যা করা ১১ জন।

এর আগে রাত ১০টার সময় এক প্রতিবেশীর বাড়ির বাইরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় সবিতা ও তার মেয়ে নিতুকে। তারা অনেক টুল নিয়ে বাড়ির দিকে হেঁটে আসছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গলায় দড়ি লাগিয়ে ঝোলার বা ঝোলানোর জন্য ৫টি টুল ব্যবহার করা হয়েছিল ওই রাতে, যা সিসিটিভির ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে।

রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে পাশের একটি দোকান থেকে ২০টা রুটি ডেলিভারি দিয়ে যান এক যুবক। রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে নারায়নী দেবীর বড় ছেলে ভুবনেশ তাদের পোষ্যকে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। রাত ১১টা ৪ মিনিটে তারা ফিরে আসেন।

মঙ্গলবার সকালেও ভাটিয়ার বাড়িতে তদন্তে যায় পুলিশ। এ সময় ওই বাড়ি থেকে আরও কিছু নোট উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ২০০৭ সালে বাবার মৃত্যুর কয়েক মাস পর থেকেই ভাটিয়া পরিবার এসব ধর্মীয় আচার এবং অতিপ্রাকৃতে বিশ্বাস করতে শুরু করে। বাবার মৃত্যুতে সব থেকে বেশি প্রভাবিত হয়েছিলেন ললিতই। পরিবারের অন্যরা ললিতের মধ্যেই তাদের বাবা ভোপাল সিংহকে দেখতে পেতেন। নারায়নী দেবীর ছেলে-পুত্রবধূ ললিতকেই ‘ড্যাডি’ বলে সম্বোধন করতেন।

বুরারি পরিবার কোনোভাবেই মৃত্যুকে বরণ করতে চাননি। তাদের বিশ্বাস ছিল- ভগবান তাদের রক্ষা করবেন। তারা ভেবেছিলেন এতে তাদের সব সমস্যা মিটে যাবে। আর সফল হলে ললিতের স্ত্রী টিনার বোন মমতার ওপরেও এর প্রয়োগ করবে, এটিও ঠিক করে ফেলেছিলেন। কারণ মমতা বর্তমানে কিছু সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। যদিও তাকে নিয়ে ভাটিয়া পরিবার যে এসব ভেবেছিল, তা ঘূর্ণাক্ষরেও জানতেন না ৭৭ বছর বয়সী মমতা দেবী।

ad

পাঠকের মতামত