এই ৪ বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়
আর মাত্র দুইদিন পরই পর্দা উঠবে রাশিয়া বিশ্বকাপের। এর পরই শুরু হবে শিরোপা লড়াইয়ের যুদ্ধ। এক্ষেত্রে কেউ কাউকে এক চুল পরিমাণও ছাড় দিবে না। বরং নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়বে ছোট-বড় ৩২টি দল। কিন্তু এত কষ্টের পরও শিরোপা উঠবে একদলের হাতে। অর্থাৎ মাত্র একটি ট্রফির জন্য একমাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলবে ৩২ দলের।
হিসাব বলছে, এবারের বিশ্বকাপ যে ক’দলের হাতে শিরোপা উঠতে পারে তাদের অন্যতম পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শিরোপা প্রত্যাশী দলটি এবারের আসরে অন্যতম হট ফেভারিট। তিতের নেতৃত্বে বাছাই পর্ব থেকেই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে আসছে দলটি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, তিতে দায়িত্ব (কোচের দায়িত্ব) নেয়ার পর থেকেই বেশ ছন্দময় ফুটবল খেলছে সেলসাওরা। তারপরও এবারের আসরে জিততে মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে ব্রাজিলকে। গোনিউজ পাঠকদের জন্য সেগুলো তুলে ধরা হল।
নেইমারের নেতৃত্বে শক্তিশালী অ্যাটাকিং: অক্সিজেন ছাড়া যেমন প্রাণীকুলের বেঁচে থাকা অসম্ভব, ঠিক তেমনই খেলাধুলা ছাড়া বসে থাকা অসম্ভব খেলোয়াড়দের। তবুও মাঝে মধ্যে ইনজুরি তাদের বাধ্য করে সাইট বেঞ্চে বসে থাকতে। ঠিক যেমনটা ঘটেছে নেইমার জুনিয়রের বেলায়। ৯৯ দিন ফুটবলের বাইরে ছিলেন তিনি। একসময় তো ভাবাই হচ্ছিল নেইমারকে ছাড়া সম্ভবত বিশ্বকাপ খেলবে সেলসাওরা।
জেসুসদের নিয়ে শক্ত আক্রমণভাগ ঘটতে হবে ব্রাজিলকে।
কিন্তু না, ভাগ্য সব সময়ই সাহসী ও পরিশ্রমীদের পক্ষে। তাই হয়তো, বড় চোটের পরও সঠিক রিহ্যাবের মাধ্যমে ফিরে আগের সেই ধার নেইমারের পায়ে। সর্বশেষ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিলের জার্সিতে দুইটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান নেইমার। আর তাতে দুটি গোল করেন তিনি। শুধু নেইমারই নন দলের আক্রমণভাগের সবাই নিজেদের উজাড় করে খেলছেন।
হেক্সা মিশনে উঠার প্রথম ধাপ অর্থাৎ বাছাই পর্বে মোটে ৪১ টি গোল করেছে ব্রাজিল। বুঝাই যায় দলটির আক্রমণভাগ নিজেদের কতটা জ্বালিয়ে নিয়েছে। তবে সে ধারা অব্যাহত রাখতে হবে চূড়ান্ত পর্বেও।
উড়ন্ত ফর্ম অব্যাহত রাখা: ব্রাজিলের বর্তমান দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ই উড়ন্ত ফর্মে রয়েছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কাসিমিরো-মার্সেলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন।লিভারপুলের হয়ে রানার্সআপ হয়েছেন ফিরমিনো। এছাড়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে শিরোপা জিতেছেন জেসুস-আন্ডারসন। বার্সার হয়ে কুতিনহো-পাওলিনহোরও রয়েছে জোড়া শিরোপা। অন্যদিকে পিএসজির হয়ে দুরন্ত ফর্মে-নেইমার-সিলভা-দানি আলভেস। যদিও আলভেস বর্তমানে ইনজুরিতে। তবে নেইমার সিলভার কসরত চোখে পড়ার মতো।
সিলভার নেতৃত্বে রক্ষণভাগ সামলাতে প্রস্তুত ব্রাজিল।
সংহত রক্ষণভাগ: সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছে সাম্বারা। এরপর তিন আসর অধরাই রয়ে গেছে। এমনকি সর্বশেষ অর্থাৎ নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ৭ গোল খেয়ে বাদ পড়েছে দলটি। মূলত বাজে রক্ষণভাগের কারণেই এমন পরিণতি হয়েছে তাদের। তবে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে বর্তমানে বেশ ফুরফুরে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
তিতের ম্যানেজমেন্ট: তিতে যোগ দেয়ার আগে সর্বশেষ ছয়টি ম্যাচে ৫টিতেই ভরডুবি হয়েছে ব্রাজিলের। তবে তিনি যোগ দেয়ার পরই রাতারাতি সোনায় পরিণত হয় দল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচের ১৭টিতে জিতে নেয় ব্রাজিল। সামনে তার দায়িত্বে কেমন খেলে ব্রাজিল সেটাই দেখার বিষয়।




