‘কোনো ছাত্রীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক ছিল না’, মৃত্যুর আগে শিক্ষকের চিরকুট
‘আল্লার কসম করে বলছি কোনো ছাত্রীর সাথে আমার দৈহিক সম্পর্ক ছিল না।’ মৃত্যুর আগে কাউকে দায়ী না করে চিরকুটে এ কথা লেখে যান এক শিক্ষক।
নিহতের নাম আব্দুল ওহাব (৬০)। তিনি কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। কুমিল্লায় ভাড়া বাসার বাথরুম থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
আব্দুল ওহাব মৃত্যুর আগে দুটি চিরকুট লিখে গেছেন। চিরকুটে তিনি তার মৃত্যুতে স্ত্রী, সন্তানসহ কাউকে দায়ী করেননি।
চিরকুটের এক স্থানে লেখেন, ‘আল্লার কসম করে বলছি কোনো ছাত্রীর সাথে আমার দৈহিক সম্পর্ক ছিল না।’
আরো লেখেন,‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, দায়ী আমার নসীব। অধ্যক্ষ থাকাকালীন দুই একজনের সাথে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে।’
আরেকটি আব্দুল ওহাব লেখেন, ‘একথা সত্য যে কোন ছাত্রী আমার নিকট সহজে তার সমস্যার কথা বলতো। আল্লার কসম করে বলছি- কোনো ছাত্রীর সাথে আমার দৈহিক সম্পর্ক ছিল না।’
সূত্র জানায়, কুমিল্লার মহিলা কলেজ রোড মাদার কেয়ার হাসপাতালের পেছনে ভাড়াটে বাসার দুই তলা থাকতেন প্রফেসর আব্দুল ওহাব। তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ২নং চৌয়ারা ইউনিয়নের হেমজোড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। তার পরিবারের সদস্য হিসেবে ছিল স্ত্রী মরিয়ম আক্তার ও এক মেয়ে লাবিবা আক্তার।
আব্দুল ওহাব কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে ২০১৪ সালের ২ জুন থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিহতের স্ত্রী বলেন, আব্দুল ওহাব পেনশন, সম্পত্তি ও পরিবার নিয়ে মানসিকভাবে চিন্তিত ছিলেন। সোমবার সাহরির পর কোন একসময় বাথরুমে ঝর্ণার পাইপের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। তার লেখা চিরকুটগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরো বলেন, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে তার গলায় এবং অণ্ডকোষে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে জানা যাবে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা।




