219823

সেদিন বস্তি থেকে একটি শাড়ি চেয়ে এনেছিলাম: টয়া

মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া। নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে জয় করেছেন দর্শক মন। ২০১০ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মূলত নজরে আসেন তিনি। ধীরে ধীরে তার নিজস্ব স্টাইল দিয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

প্রথমেই জানতে চাইব ঈদের কেনাকাটার প্রস্তুতি নিয়ে।

মুমতাহিনা টয়া: ঈদের জন্য এখনো তেমন কোনো শপিং করা হয়নি। মা একটা শাড়ি কিনে দিয়েছেন আর বোন একটা সালোয়ার কামিজ কিনে দিয়েছেন। প্ল্যান আছে এ মাসের ১৩ বা ১৪ তারিখের দিকে টুকটাক শপিং করব।

 আপনার এমন একটি গোপন বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইব যা এর আগে অনেকেই জানতেন না।

মুমতাহিনা টয়া: গোপন বিষয় হল, আমি আগে এতো সাজুগুজু পারতাম না। আসলে মিডিয়াতে আসার আগে আমি একদমই মেকআপ করতে জানতাম না। এমনকি ঠিকমতো চোখে কাজলও দিতে পারতাম না।

 

 শপিং নিয়ে ছোটবেলার স্মৃতি চাইনতে চাই…

মুমতাহিনা টয়া: আমি এমন একটা বাচ্চা ছিলাম যে, আমার মা আমাকে শপিং মলে নিয়ে যেতে চাইতেন না। কারণ আমি শপিং মলে গেলেও আমি খালি এটা ওটা কিনতাম। দেখা গেল এই মাত্র দোকান থেকে একটি পুতুল কিনেছি। এরপর আরেকটি দোকানে গিয়ে হাতের পুতুলটা সঙ্গে-সঙ্গে ফেলে দিয়ে, নতুন আরেকটা পুতুল কেনার বায়না ধরতাম। সেই সঙ্গে দোকানের মেঝেতে গড়াগড়ি খাওয়া শুরু করতাম। এ কারণে মা আমাকে অনেকদিন শপিং-এ নিয়ে যাননি।

 

পোশাকের ক্ষেত্রে কী পরতে বেশি ভালো লাগে?

মুমতাহিনা টয়া: শাড়ি আমার খুব পছন্দের পোশাক। আমার কাছে মনে হয়, শাড়িতে একটা অন্যরকম সৌন্দর্য কাজ করে। এমনিতেতো আমরা সব সময়েই টপস, জিন্স এসব পরছি। কিন্তু শাড়িতো আর সব সময় পরা হয় না। তাই যখন অভিনয়ের সময় শাড়ি পরি তখন নিজের কাছে খুব ভালো লাগে। তখন নিজের কাছে নিজেকে দেখতেও বেশ ভালো লাগে।

কী ধরনের শাড়ি পছন্দ?

মুমতাহিনা টয়া: তাঁতের শাড়ি আমার খুব পছন্দ। হাতে চুড়ি দিয়ে, কপালে টিপ দিয়ে তাঁতের শাড়ি পরতে আমার ভালো লাগে।

এবার জানতে চাইবো সাধারণত কোথা থেকে কেনাকাটা করা হয়?

মুমতাহিনা টয়া: থাইল্যান্ডে গেলে আমি অবশ্যই ফরেভার২১ থেকে শপিং করার চেষ্টা করি। পশ্চিমা পোশাকের বেলায় ‘ইয়েলো’, ‘নয়ার’ ও ‘এক্সট্যাসি’ থেকেও কিনি। আমার বেশিরভাগ জুতা অনলাইন থেকে কেনা। জুতার বেশিরভাগ কালেকশনই চায়না থেকে ওয়ার্ডার দিয়ে নিয়ে আসা হয়। তাঁতের শাড়ি বা অন্য সুতি শাড়িগুলো আম্মু সাধারণত নিউমার্কেট থেকে কিনে দেন। আর পার্টি শাড়িগুলোর কিছু অংশ অনলাইন থেকে কিনি, কিছু আবার ইন্ডিয়া থেকেও কিনে নিয়ে আসা হয়। শুটিং-এর শাড়িগুলোও মা-ই কিনে দেন। এদিকে আমার কিছু ডিজাইনার বন্ধু আছেন, তাদের কাছ থেকেও নকশা করা শাড়ি কিনে নিই। অনলাইন দোকানগুলো থেকেও কিনি। মাঝেমধ্যে কিছু শাড়ি ইন্ডিয়া থেকেও কিনে নিয়ে আসা হয়। এ ছাড়া একেক সময় একেক জায়গা থেকে কেনাকাটা করি।

পোশাকের ক্ষেত্রে পছন্দের রং কী?

মুমতাহিনা টয়া: রং-এর বেলায় বলতে গেলে সবুজ রং আমার খুব পছন্দ। শাড়ি পরলে তখন একটু জমকালো রংগুলো বেশি পরা হয়। আর যদি সালোয়ার কামিজ পরি তখন হালকা রংগুলো পছন্দের তালিকায় রাখি। যদিও ফ্যাশন ও সাজ-পোশাক সব সময়েই আমার মুডের উপর নির্ভর করে।

সময় একে একেক চরিত্রে একেক রকমের পোশাক পরতে দেখা যায়, জানতে চাইব শুটিংয়ের পোশাকের সংগ্রহ নিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য স্মরণীয় ঘটনা?

মুমতাহিনা টয়া: যেহেতু অভিনয়ের জন্য আমাদের বিভিন্ন রকমের পোশাক পরতে হয়। তো একবার একটা চরিত্রে অভিনয় করার জন্য বেশ পুরাতন শাড়ির প্রয়োজন হয়েছিল। সেদিন শুটিংয়ে আমি যে শাড়িগুলো নিয়ে গিয়েছিলাম, সেগুলো চরিত্র অনুসারে ততটা মলিন ছিল না। তখন প্রোডাকশনের একজনের সঙ্গে শুটিং স্পটের পাশের একটি বস্তিতে যাই। সেদিন বস্তি থেকে একটি শাড়ি চেয়ে এনেছিলাম। ওই শাড়িটি পরেই সেদিন অভিনয় করেছি।

সবার শেষে জানতে চাইব কিসের প্রতি আপনার সবচেয়ে বেশি ফ্যাসিনেশন?

মুমতাহিনা টয়া: আমার পারফিউমের প্রতি বেশি ফ্যাসিনেশন। ইদানিং জর্জিও আরমানির এসআই-এর একটি পারফিউম ব্যবহার করছি। পারফিউমের ক্ষেত্রে আমার খুব একটা ফ্র্যাগরেন্স পরিবর্তন করা হয় না। দেখা যায়, যেই ফ্র্যাগরেন্স দিয়ে শুরু করেছি, সেটাতেই পড়ে আছি বহুদিন। একটা জিনিস অনেকদিন ধরে ব্যবহার করাটাই আমার কাছে বেশ মজার। গন্ধটা তখন খুব পরিচিত হয়ে যায়। আমার কাছে মনে হয় একই রকমের পারফিউম ধরে রাখাটা এক ধরনের পরিচয় বহন করে। অনেক সময় দেখা যায় বাসা থেকে বের হওয়ার সময় হাতে সাজগোজ করার সময় পাচ্ছি না। তখন ওই পারফিউমটা একটু খানি মেখে দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে যাই।

ad

পাঠকের মতামত