‘গভীর রাতে ফেরার উপায় না দেখে হাউমাউ করে কানতেছিল’
দেখতে দেখতে কেটে গেছে ২২ রমজান। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দোকানপাট-শপিংমলেও তত ভিড় বাড়ছে। ফলে দোকান-শপিংমলের কর্মচারীদেরও অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু কাজ শেষে রাতে বাসায় ফেরার সুব্যবস্থা করছেন না মালিকপক্ষ। ফলে মধ্যরাতে বাসায় ফিরতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে কর্মচারীদের। এ ক্ষেত্রে নারী কর্মীদের পড়তে হচ্ছে বেশি ঝামেলায়।
রাজধানীর বিভিন্ন দোকান-শপিংমলে কর্মরত ৩১ জন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে প্রিয়.কম। তারা সবাই জানান, কাজ শেষে রাতে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কোনো ধরনের ব্যবস্থাই রাখে না মালিকপক্ষ।
এই ৩১ জন কর্মচারীর মধ্যে সাত নারী রয়েছেন। তারাও জানান, ঈদের বেচা-কেনার চাপ থাকায় তাদের মাঝেমধ্যে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। কিন্তু যাওয়া-আসা পুরো দায়িত্ব তাদেরই করতে হয়। এ জন্য মালিক আলাদা টাকা-পয়সা কিংবা যানবাহনের ব্যবস্থা করেন না। এমনকি রাত যতই হোক না কেন, তাদের বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য সঙ্গে কেউ থাকে না।
মধ্যরাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারসংলগ্ন বসুন্ধরা সিটি থেকে বাসায় ফেরার সময় বাটার শো রুমের এক নারী কর্মী ‘বিপদে’ পড়েন। বিষয়টি তুলে ধরে গত ৪ জুন পারমিতা হিম নামের এক সংবাদকর্মী লিখেন, ‘গত বুধবার রাত দুইটায় এক মেয়েকে রাস্তায় দাঁড়ায়ে কাঁদতে দেখি বসুন্ধরার (কারওয়ান বাজারের বসুন্ধরা সিটি) সামনে। গভীর রাতে চাকরি শেষে (বাটা জুতার শোরুম থেকে) বাসায় ফেরার কোনো উপায় না দেখে রাস্তায় দাঁড়ায়ে হাউমাউ করে কানতেছিল সে।’
মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ার এপেক্স জুতার দোকানে ১৬ জন কর্মী কাজ করেন। তাদের মধ্যে দুজন নারী। কাজ শেষে বাসায় ফেরার জন্য তাদেরও কোনো ধরনের দোকানের ম্যানেজার প্রিয়.কমকে জানান, তারা নিয়োগ দেওয়ার সময় যারা দোকানের আশপাশে থাকে, তাদেরই নিয়োগ দিয়েছেন, যাতে করে তারা অফিস শেষে বাসায় যাওয়ার সময় ভোগান্তির শিকার না হন।
এই কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী কর্মঘণ্টাও মানা হয় না। তাদের মধ্যে চারজন সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত, দুজন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা, পাঁচজন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টা, ১৬ জন সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তবে তাদের সবাই জানান, ক্রেতাদের চাপ থাকলে এই নির্দিষ্ট সময়ের চেয়েও বেশি কাজ করতে হয়। কিন্তু পৌঁছানোর থাকে না ব্যবস্থা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষ্যে দোকানে চাপ বাড়া মালিক কর্তৃপক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া কর্মচারীদের অবস্থাও প্রায় একই রকম। এই ৩১ জনের মধ্যে ১৭ জনকেই অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন এক মাসের, চারজনকে ১৫ দিন, একজনকে দেড় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দুজনকে চার হাজার, একজনকে দেড় মাসে সাত হাজার, চারজনকে দিনে ৩০০ টাকা, ১০ জনকে সাড়ে আট হাজার টাকা দেওয়া হয়।
স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মচারীরা জানান, তাদের বেতনের বাইরে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না। তবে স্থায়ী কর্মচারীদের অনেককে কমিশন দেওয়া হয়।
স্থায়ী কর্মচারীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, এক লাখ টাকার মালামাল বিক্রি করতে পারলে তাদের দুই হাজার ২০০ টাকা কমিশন দেওয়া হয়।




