চাকরির বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে আল্টিমেটাম
চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছরে উন্নীত করার দাবিতে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ। আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে বয়সসীমা ৩৫ বছর করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেয় তারা। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ এ হুমকি দেয়া হয়।
গত ৬ জুন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জাতীয় সংসদে বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। মন্ত্রী বলেন, পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সেশনজট থাকলেও এখন তেমনটি দেখা যায় না। ফলে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ১৬ বছরে এসএসসি, ১৮ বছরে এইচএসসি এবং ২৩ থেকে ২৪ বছরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে থাকে।
তিনি আরো বলেন, যাদের বয়স বর্তমানে ৩০ বছরের উপর তারা চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ পেলেও অনূর্ধ্ব ৩০ বছরের প্রার্থীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার কোনো উদ্যোগ সরকারের আপাতত নেই।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ। তাদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সুযোগের সমতা থাকবে। সেখানে অনূর্ধ্ব-৩০ ও ৩০ ঊর্ধ্ব বলে শ্রেণিবিন্যাস করা সংবিধান পরিপন্থী।
আরো বলা হয়, সীমা আরোপ করা কখনোই সমতা বিধান করে না, করে শুধু শ্রেণিবিন্যাস। আর একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর এ রকম শ্রেণিবিন্যাসমূলক ও সংবিধান পরিপন্থী মন্তব্য হতাশাব্যঞ্জক ও নিন্দনীয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক সঞ্জয় কুমার দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ, সুদীপ পাল, শফিকুর রহমান, আনিসুল হক, লিউনা হক, তানভীর আহমেদ প্রমুখ।




