218957

সংসদে প্রধানমন্ত্রী : চলছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ তৈরির প্রস্তুতি

নিউজ ডেস্ক।। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, স্যাটেলাইটের আয়ুষ্কাল ১৫ বছর। একটি তৈরিতে ৫-৬ বছর লেগে যায়।
সেজন্য এখন থেকেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্যাটেলাইট সুবিধা পেতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, একটার পর আরেকটা চালু হতে পারে; সেটা মাথায় রেখে কাজ শুরু করে দিয়েছি। দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার আগে তৃতীয়টা তৈরি করব। এভাবে পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিকতা চালিয়ে যাব।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এ তথ্য জানান।
স্যাটেলাইটের মালিকানা নিয়ে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালিকানা অবশ্যই বাংলাদেশের। সরকার যেভাবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়, সেভাবেই আমরা এর মালিক হয়েছি। তবে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যারা যতটুকু ভাড়া নেবে ততটুকু মালিক হবে। তাই এ ধরনের মন্তব্য করাটাও লজ্জাজনক। কারণ এর ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রয়োজন হবে ২০টি। বাকি ২০টি সার্কভুক্ত দেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশের কাছে ভাড়া দিতে পারব। এখানে দুই ব্যক্তি মালিক কীভাবে হলো সেটা বুঝতে পারছি না। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে এবং স্বাধীনতায় বিশ্বাস করলে কেউ ওই ধরনের মন্তব্য করতে পারে না।

তিনি বলেন, স্যাটেলাইটের ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টেলিভিশন টু হোম) টেকনোলজি ব্যবহারের জন্য দুজনকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বিএনপি দুজন মালিক বলতে সেটাকে বুঝেছে কিনা বোধগম্য নয়। অর্বাচীনের মতো এ ধরনের কথা বলা জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এর থেকে বোঝা যায় তারা মানুষকে ভালোবাসে কিনা। এরা দেশ চালালে দেশের উন্নতি হবে কী করে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে দেশ-বিদেশের সব বাঙালি খুশিতে উদ্বেলিত। সব মানুষ যখন এত খুশি, তখন বিএনপি কেন এত দুঃখী। পৃথিবীর অনেক দেশ আমাদের অনেক আগেই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। আমরা কেন পারলাম না?
বিএনপির প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পর্কে সংসদ নেতা বলেন, তাদের চিন্তাভাবনা এত সংকীর্ণ যে, এই অঞ্চলে যখন সাবমেরিন ক্যাবল আসে তখন বিনা পয়সায় দেওয়া হলেও বিএনপি সরকার তথ্য পাচার হবে বলে সেটি নিল না। এই কথা বলে আমাদের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। জানি না বিএনপির কাছে কী এমন গোপন তথ্য থাকে যে কুক্ষিগত রাখতে চায়। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই আমরা। যখন যে প্রযুক্তি আসবে সেটা যেন আমরা গবেষণা, ধারণ ও ব্যবহার করতে পারি সেই ব্যবস্থা নেব। দেখি আগামীতে নতুন কী যুগ আসে, তখন আমরা সেদিকেও যাব। যখনই যেটা আধুনিক ও যুগোপযোগী হবে সেটাই আমরা চিন্তাভাবনা করব।

শেখ হাসিনা বলেন, সাগরের তলদেশ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের মর্যাদাকে উন্নত করেছি। অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে এজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।
স্যাটেলাইটের সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইট ইতোমধ্যে তার কক্ষপথে পৌঁছে গেছে। সিগন্যাল দিতে শুরু করেছে। একবার যখন কাজ শুরু করে দেবে তখন কোনো সমস্যা হবে না।

যেসব অঞ্চল ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে না, সেসব অঞ্চলেও ইন্টারনেট সার্ভিস পেয়ে যাবে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ কিছু বা দুশ্চিন্তার দরকার নেই।
ভারতের শান্তিনিকেতনে দেওয়া ভাষণ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এটুকু বলব, না বলা কথাটি রবে না গোপনে।

ad

পাঠকের মতামত