218682

নিজ বাসায় মহিলা আ’লীগ নেত্রী খুন, দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি!

 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ, মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি শাহিনা সুলতানা ফেন্সি (৫৭) খুন হয়েছেন। এই ঘটনায় ফেন্সির স্বামী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামকে আটক করেছে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার দিনগত রাত ১০টায় শহরের ষোলঘর পাকা মসজিদ এর দক্ষিণ পাশে, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিপরীত পাশে শেখ বাড়ি রোডে অবস্থিত নিজস্ব বাসভবনের চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে যে, বেড রুমের ভেতরে খাটের পাশে মেঝেতে অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানা ফেন্সির রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। আর লাশের আশপাশে ছোপ ছোপ রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এদিকে অ্যাড. জহিরের ছোট ভাই নয়নের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তার ভাই মসজিদ থেকে নামাজ শেষ করে বাসায় গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা খোলা।

ভেতরে ঢুকে দেখেন তার স্ত্রীর লাশ ফ্লোরে পড়ে আছে। তখনই অ্যাড. জহির তার ভাইসহ আত্মীয়-স্বজন এবং থানাকে ফোন দেন। নয়ন জানান, রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে তাকে তার ভাই ফোন দিয়ে ভাবি খুন হওয়ার ঘটনা জানান। ঘটনার খবর পেয়ে নিহত অধ্যক্ষ ফেন্সির আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

নিহতের বড় ভাই ষোলঘর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নঈমুদ্দিন খান ঘটনাস্থলে এ প্রতিবেদককে বলেন, তার ভগ্নিপতি অ্যাড. জহির দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। প্রথম স্ত্রী হচ্ছেন তার বোন ফেন্সি। তার বোনের সংসারে তিন মেয়ে রয়েছে। তাদের তিনজনেরই বিবাহ হয়েছে। দুই মেয়ে দেশের বাইরে থাকেন। অ্যাড. জহিরের দ্বিতীয় বিবাহ করা নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো।

তিনিসহ অন্য ভাই-বোনরা জোর দিয়ে বলেন, অ্যাড. জহিরই তার স্ত্রীকে খুন করেছে। নিহত ফেন্সির স্বামী এডভোকেট জহিরুর ইসলামের গ্রামের বাড়ী চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নের শিলন্দিয়া গ্রামের মিয়াজী বাড়ী। তার পিতা মৃত মো. নুরুল ইসলাম মিয়াজী। তিনি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ এর সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি।

মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালী উল্লাহ অলির সাথে ঘটনাস্থলে কথা হলে তিনি জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। এরপর খুনের ঘটনা দেখতে পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। তখন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান এবং আরো বেশ ক’জন পুলিশ ইন্সপেক্টর, পিবিআই ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট সম্পর্কে ওসি জানান, লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথার মাঝামাঝি স্থানে প্রচণ্ড আঘাত রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই অ্যাড. জহিরকে আটক করে। সূত্র: মানবজমিন।

ad

পাঠকের মতামত