218612

চলে গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ পাবনার আহসান!

 

ঢাকা : অবশেষে ১২৬ বছর বয়সে চলে গেলেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ’ পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার আলহাজ আহসান উদ্দিন শাহ। তিনি উপজেলার বিএল বাড়ি গ্রামের বরকত শাহের ছেলে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার সময় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান। এদিন বাদ এশা তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় সোদিমেদজো নামের সবচেয়ে বেশি বয়সী (১৪৬ বছর) ব্যক্তিটি মারা যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত ‘বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ’ মনে করা হচ্ছিল বাংলাদেশের পাবনার আহসান উদ্দিন শাহকে। যদিও এর কোনো রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই।

এর আগে গত ২৪ মে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলে জানান আহসান উদ্দিনের ছোট ছেলে সাংবাদিক গোলাম মওলা। এরপর থেকে তার অবস্থা খারাপ। এর আগেও একাধিকবার তিনি স্ট্রোক করেছিলেন।

মৃত্যুর আগে বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন তিনি। অবশ্য গত তিন বছর ধরে তিনি বসে বসে নামাজ আদায় করেন। ১৮৯২ সালের জানুয়ারি মাসের কোনও একদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে আহসান উদ্দিনের ছোট ছেলে গোলাম মওলা বলেন, আমার বাবা তার দীর্ঘজীবন পরিক্রমায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির আমূল পরিবর্তন যেমন দেখেছেন, তেমনি এই প্রবীণের জীবদ্দশায় ব্রিটিশশাসিত সরকার, পাকিস্তান সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের শাসন দেখে যেতে পারেছেন। এই দীর্ঘজীবনের জন্য তিনি কৃতিত্ব দিয়েছেন নিয়ন্ত্রিত জীবন এবং খাদ্যাভ্যাস। ছোটবেলা থেকেই তিনি নিয়মিত গরুর দুধ পান করতেন। তার প্রিয় খাবার ছিল দুধ কলা ভাত। তিনি নিজেই নিজের খাবার খেতে পারতেন। তিনি গরুর দুধ ছাড়া ভাত খেতে চাইতেন না।

আহসান উদ্দিন শাহ এক স্ত্রী ও ১৪ (সাত ছেলে ও সাত মেয়ে) সন্তানের জনক। মহান মুক্তিযুদ্ধের আগেই ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ৫ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ মোট ৯ সন্তান জন্ম দেন।

স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি আরও ২ ছেলে ও আরও ৩ মেয়েসহ মোট ৫ সন্তানের বাবা হন। সব মিলিয়ে ১৯৮৭ সালে তিনি ১৪ সন্তানের জনক হন।

মৃত্যুর আগে এক সাক্ষাৎকারে আহসান উদ্দিন শাহের কাছে তার বয়স জানতে চেয়েছিলেন এই প্রতিবেদক। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমার বয়স কত হয়েছে তা বলতে পারব না। তবে পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে যখন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করা হয় তখন আমার বয়স ছিল ১৮ থেকে ২০ বছরেরও কাছাকাছি।

১৯০৮ সালের দিকে ব্রিটিশশাসিত ভারত সরকার ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রেলপথ তৈরির কাজ শুরু করে। তিনি জানান, ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রেলপথ তৈরির সময় তিনি ও তার বন্ধুরা সেখানে অনেক আড্ডা দিয়েছেন।

ad

পাঠকের মতামত