218382

শাকিবই কী প্রথম কাজ করছেন কলকাতায়, তাহলে কেন এই বিভাজন?

আপনি কার পক্ষের লোক? সাধের চলচ্চিত্র পাড়া বিভাজিত হয়ে এখন এমন এক জায়গায় ঠেকেছে যে, কারো সঙ্গে কথা বললে পাশ থেকে অন্যজন এই প্রশ্নটা করবেই! আবার প্রত্যেকেই বিভিন্ন টকশো কিংবা অনুষ্ঠানে গলা ফাটিয়ে বলেন, আমরা সবাই চলচ্চিত্রের মঙ্গলের জন্য কাজ করছি। মঙ্গলের জন্য কারছি বলেই প্রতিপক্ষ আছে! যেন এটি সরকারি-বিরোধীদলের মতো এক বিশাল বাহাস! কেন এই বিভাজন? কেন এই দ্বন্দ্ব? সামান্য এক ইফতার পার্টি নিয়ে ওমর সানী- জায়েদ খান পরস্পরকে দোষ দিচ্ছেন। ফেসবুকে সারা বিশ্ববাঙালি দেখছে। ক্ষতিটা কার হচ্ছে? এই ইন্ডাস্ট্রির। হাস্যরসে পরিণত হচ্ছে চলচ্চিত্রশিল্পী সমাজ! কে সঠিক, কে বেঠিক সেই প্রশ্ন এখানে না, কিন্তু দিনদিন চলচ্চিত্রশিল্পী সমাজ বিভাজিত হচ্ছে। এটা এখন দূর গ্রামের এক দর্শকরাও জানেন ফেসবুক ইউটিউবের কল্যাণে।

জায়েদ খান বলছেন, ‘আমরা নীতি অনুযায়ী কাজ করছি। কারণ এর আগে শিল্পী সমিতির এত সুন্দর চাকচিক্য কেউ দেখেনি।’ তবে কেন এই গ্রুপিং? আর নেতৃত্বের আসনে বসলে তো দায় নিতেই হবে। প্রত্যাশার চাপও থাকবে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন শাকিব খানকে নিয়ে। শাকিব খান একাধিক ইন্টারভিউতে বলেছেন যে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমি এদেশে নিষিদ্ধ!’ শাকিব খানের চালবাজ মুক্তি নিয়ে নানা কথা রটেছে। এমনিতেই হলের খরা। অন্যদিকে জাজ মাল্টিমিডিয়াকে দোষ দিচ্ছেন প্রযোজকরা যে, এই প্রতিষ্ঠান ছবির ব্যবসা হতে দিচ্ছে না। এসব কথা সেমিনার, টকশোতে বলছেন। অপরদিকে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বহীন প্রযোজক সমিতির কোনো দাপুটে ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না বা দেখাতে পারছে না।

কেন এই বিভাজন? এই প্রশ্নের জবাব কে জানেন? প্রতিটি ক্ষেত্রে। এই দায় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সমিতির নয় কী? কারণ এটা দিব্যলোকের মতো সত্য যে, বর্তমান চলচ্চিত্রের বাজারে শাকিব খানের মতো সফল তারকা নেই। কিন্তু দেশীয় ছবির শিডিউল থেকে ক্রমাগত তার নাম বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে কি অদূর ভবিষ্যতে শাকিব খানের ছবি আমদানিকৃত ছবি পদ্ধতিতেই দেখবে দর্শকরা। জনপ্রিয়তার শীর্ষ অবস্থানকে ঈর্ষা করেন অনেকেই। থাকতেই পারে শাকিব খানের কিছু ভুল। কিন্তু সেখানেও তো শুধরানোর পথ থাকতে হবে! আর একচেটিয়া জনপ্রিয়তা হলে সেখানে কিছু দায়-দায়িত্ব বা নিজস্ব ভুল বোঝাবুঝি প্রকট হয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন শাকিব খানের সাথে এই মতবিরোধ বা একাধিক গ্রুপিংয়ের ফলে রুগ্ন থেকে রুগ্নতর হয়ে উঠছে ইন্ডাস্ট্রি!

ওপার বাংলায় কি শাকিব খানই প্রথম কাজ করছেন। এর আগে নায়করাজ থেকে শুরু করে এদেশের একাধিক নামীদামি তারকারা নিয়মিত ও একাধিক চলচ্চিত্র করেছেন। সেক্ষেত্রে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নানা কাগুজে ফাঁক ফোকর বা নীতিগত ভুলগুলোকে কি সংগঠনগুলো শুধরে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির কথা ভাবতে পারেন না? সম্প্রতি আশিকুর রহমানের ‘সুপার হিরো’ ছবিটি মুক্তি নিয়েও নানা জটিলতা দেখা গেছে। সাধারণ দর্শকরা কিন্তু সমিতি বা সংগঠনের সংবিধান মুখস্থ করে ছবি দেখতে আসেন না। তাই বিষয়গুলো জরিমানা বা আলোচনা সাপেক্ষে হলেও ছবি রিলিজ ব্যাহত হলে ১২০০-৮০০-৩০০ এই অবনতির দিকে হল সংখ্যা নামবে। আমাদের আত্মবিশ্বাস, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হওয়ার নয়। কিন্তু শাকিব গ্রুপ, মিশা-জায়েদ গ্রুপ, ওমর সানী-অমিত হাসান গ্রুপ, জাজ গ্রুপসহ বিভিন্ন অপ্রকাশ্য গ্রুপিংয়ের খবর যখন এফডিসির খা খা করা ফ্লোরগুলো গুনতে থাকে তখন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক বিশাল হাহাকারের জন্ম দেয়! এফডিসিতে কেউ হাঁটলেও এখন পাশে থেকে বলে ওঠে ‘আরে ও তো জাজের লোক!’ এই জটিল অবস্থার জন্য যে দায়ী হোক পদক্ষেপ নিতে হবে সংগঠনগুলোর।

ad

পাঠকের মতামত