217511

আওয়ামী লীগের ৯১%, বিএনপির ১%

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির বিভিন্ন প্রস্তাব, সুপারিশ ও দাবির মধ্যে কিছু বাস্তবায়ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আওয়ামী লীগের প্রায় সব চাওয়া পূরণ করলেও বিএনপির চাওয়াকে গুরুত্ব দেয়নি কমিশন।

বিএনপির পক্ষ থেকে করা ৭৯টি প্রস্তাব ও সুপারিশের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি বাস্তবায়ন করেছে ইসি। শতাংশের হিসাবে বিএনপির দাবি পূরণের হার এক দশমিক ২৬ ভাগ। আর আওয়ামী লীগের ১২টি প্রস্তাব ও সুপারিশের মধ্যে এখন পর্যন্ত একটি বাদে সব বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। শতাংশের হিসাবে ক্ষমতাসীন দলটির দাবি বাস্তবায়নের হার ৯১ দশমিক ৬৬ ভাগ।

২০১৭ সালের নির্বাচনি সংলাপের চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দেওয়া প্রস্তাবের সবই বাস্তবায়ন করেছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে বিএনপির কোনো দাবিই বাস্তবায়ন করেনি ইসি। এমনকি বিএনপির কোনো প্রতিবাদের সাড়া দেয়নি।

গত বছরের ৩১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নির্বাচনি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এই সংলাপে কমিশনের স্টেকহোল্ডার সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারীনেত্রী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়। নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ‘নির্বাচনি সংলাপ ২০১৭’ অনুযায়ী, এ সময় এক হাজার ১৯৪টি প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরেন তারা। এর মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবই ছিল ৮৯০টি।

তবে নির্বাচনি সংলাপের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দাবি-দাওয়ার খোঁজ রাখেনি। সুশীল সমাজ, পর্যবেক্ষকসহ অন্য স্টেকহোল্ডারদের ক্ষেত্রেও প্রায় একই কথা প্রযোজ্য। তা ছাড়া এই দুই রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব বা সুপারিশের সঙ্গে অন্যদের যেসব সুপারিশের মিল রয়েছে, কেবল সেসবই আলোচনায় আসছে এবং কমিশনও সেসব নিয়েই এগোচ্ছে। এর বাইরের সুপারিশগুলো অগোচরে রয়ে যাচ্ছে।

এ রকম প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ২৯ মে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি মনে করেন, জনগণ ও সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের আস্থা না রাখলেও কমিশনে আসতে হয়। আস্থা না রাখলেও বলতে হয়। আমরা আরেকটা পরীক্ষার অপেক্ষা করতেছি, গাজীপুর নির্বাচন পর্যন্ত। তারপরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিব।’

বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, কমিশনের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের কারণে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ায় ২০১৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে বিদায় নেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের কমিশন। এর ছয় দিনের মাথায় ১৫ ফেব্রুয়ারি কমিশনের দায়িত্ব নেয় কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন।

হুদা কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার ২৪ মাসের মাথায়, অর্থাৎ ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে এই কমিশন পার করেছে ১৫ মাসের বেশি সময়। জাতীয় নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোকে।

হুদা কমিশনে ‘নাজেহাল’ বিএনপি

নির্বাচনি সংলাপে বিএনপি ৭৯টি প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরে। সংলাপের পর থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কমিশনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসবের মধ্যে দলটির ২৫টি প্রস্তাব বা সুপারিশে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি ইসি। আর যেসব প্রস্তাব ও সুপারিশ আলোচনায় নিয়েছিল কমিশন, সেসবের মধ্যে ১৩টি বাস্তবায়ন করেনি।

১৬টি প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে, ১৭টির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষায় আছে, একটি বিবেচনায় আছে, দুটি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং চারটি প্রস্তাব কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আর একটি প্রস্তাব বাস্তবায়ন করেছে ইসি।

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করা, কারাবন্দীদের মুক্তি, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাব মুক্ত রাখা, সভা-সমাবেশসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার ফিরিয়ে আনা, ২০০৮ সালের সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বহালসহ প্রথম দিকের ১৬টি প্রস্তাব ও সুপারিশের মধ্যে আটটির বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে কমিশন।

আগামী নির্বাচনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ রক্ষা করা, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নির্বাচনি দায়িত্ব না দেওয়াসহ ছয়টি প্রস্তাব কমিশন রক্ষা করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। চুক্তিভিত্তিক সব নিয়োগ বাতিল এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দুটি এখনো আলোচনার বাইরে রয়ে গেছে।

বর্তমান কমিশনাররা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে আইন সংশোধনের কথা বলে আসছিলেন। সংলাপে বিএনপিও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সাতটি আইনের সংশোধন আনার প্রস্তাব জানায়। এই সাত আইনের মধ্যে ৪৫টির বিষয়ে পরিবর্তন আনার জন্য দাবি জানায় দলটি। তবে নির্বাচন কমিশন আইন সংশোধন করার কথা বললেও বিএনপির দাবি করা সাতটির মধ্যে পাঁচটি আইনের কোনো ধরনের সংশোধনী এখন পর্যন্ত আনেনি। বাকি দুটি আইনের মধ্যে একটি ‘গণমাধ্যম সংক্রান্ত প্রস্তাবে’ সংশোধনী আনলেও দাবি অনুযায়ী সংশোধন করেনি কমিশন।

গণমাধ্যম সংক্রান্ত নীতিমালায় পাঁচটি বিষয়ে দাবি জানায় বিএনপি, যার একটিও রক্ষা করেনি ইসি। দলটি যেসব দাবি জানিয়েছে, সেগুলোর উল্টো কাজ করেছে ইসি। তবে ইসি গণমাধ্যম সংক্রান্ত নীতিমালায় যেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে, সেগুলো আওয়ামী লীগের দাবির পক্ষে যায়।

সংশোধনী আনার অন্য আইনটি হলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২। এই আরপিও সংশোধনের দাবি করেছে আওয়ামী লীগও।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, খুব দ্রুতই আরপিও সংশোধনী করছে প্রতিষ্ঠানটি। আরপিও সংশোধনীতে বিএনপি ১৭টি বিষয়ে আলোচনা করেছে। এখন অপেক্ষা করতে হবে, কমিশন আরপিও সংশোধনী প্রকাশের পর কোনো রাজনৈতিক দলের দাবি কতটুকু রক্ষা করল।

নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রস্তাবে পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ভোটারদের ভয়-ভীতি দূর করতে কর্মসূচি নেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এই বিষয়টি বাদে দুটির আংশিক বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আর অন্য দুটি বিষয় সম্পর্কে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‘অন্যান্য প্রস্তাবে’ মোট ১৩টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কর্মকর্তাদের কল রেকর্ড, পেশিশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করা, স্টেকহোল্ডারদের মত ও সুপারিশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, সেনাবাহিনী মোতায়েন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ নয়টি প্রস্তাব রাখতে না পারার অভিযোগ রয়েছে কমিশনের বিরুদ্ধে। আর ভোটকেন্দ্রে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি ইসির বিবেচনায় আছে।

খুলনা সিটি নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে দুই-একটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। কমিশনের তত্ত্বাবধানে বিজি প্রেসে ব্যালট পেপার ছাপা এবং অতীতে যারা প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাদের একই রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার বিষয় দুটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একটি মাত্র প্রস্তাব বাস্তবায়ন বা কার্যকর করেছে। সেটি হলো নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলের প্রবেশে বাধা না দেওয়া।

সুবিধাজনক স্থানে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনি সংলাপে আওয়ামী লীগ ১২টি প্রস্তাব তুলে ধরে। আরপিও সংশোধন ও ইভিএম ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যবস্থা করার দাবির বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ইসি। ১১ নম্বরে থাকা বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বাকিগুলো কোনো না কোনোভাবে বাস্তবায়ন করেছে বা করছে ইসি।

আওয়ামী লীগকে ১০-এ ১০, বিএনপিকে শূন্য দিলো ইসি
নির্বাচনি সংলাপের বাইরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত কমিশনে গিয়ে বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব ও দাবি বাস্তবায়ন ও প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন। সিটি নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবির মধ্যে কোন দলের কতগুলো দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে, আর হয়নি, তা তুলে ধরা হলো।

ক্ষমতাসীন দলের সব দাবি বাস্তবায়ন

২৪ মে ‘সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬’-এর পরিবর্তন আনে কমিশন। সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়, এখন থেকে ওই আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ছাড়া অন্য এমপিরা নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন। ১৪ মে খুলনা সিটি নির্বাচনের সংবাদ প্রচারে সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করে ইসি।

এই নীতিমালা প্রণয়নে ১২ এপ্রিল আওয়ামী লীগ কমিশনে গিয়ে দাবি করে, আর ১৭ এপ্রিল বিএনপি তার বিরোধিতা করে। ৯ মে খুলনার রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ইসিতে অভিযোগ জানায় আওয়ামী লীগ।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষণের জন্য একজন যুগ্ম সচিব এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ৩৫ জনকে নিয়োগ দেয় ইসি।

৮ মে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩ এপ্রিল সমন্বয় কমিটি গঠন করে ইসি। সমন্বয় কমিটির প্রধান, পুরো নির্বাচনকে সমন্বয় করেন।

৩০ এপ্রিল ২৫ সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনে কমিশন। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বলে আসছিল নির্বাচনি আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। সেটা না আনলেও খসড়ায় ৪০টি আসনে পরিবর্তন আনে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। চূড়ান্ত করার সময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের চাপের মুখে মাত্র ২৫টিতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে পারে কমিশন।

উপরে বাস্তবায়িত সিদ্ধান্ত ছয়টির সবগুলোই আওয়ামী লীগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়ন করেছে ইসি। বর্তমান কমিশনাররা দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ কোনো একটি বিষয়ে কমিশনে গিয়ে দাবি জানিয়ে এসেছে, আর সেটি বাস্তবায়ন হয়নি–এমনটা পাওয়া যায় না।

বিএনপির একটি দাবিও বাস্তবায়ন হয়নি

আওয়ামী লীগের বাস্তবায়িত হওয়া ছয়টি সিদ্ধান্তেরই বিরোধিতা করেছিল বিএনপি। কিন্তু বিএনপির এই বিরোধিতাকে আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে ছয়টি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানায় বিএনপি, যার একটিও বাস্তবায়ন করেনি কমিশন।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি চিঠি দেয় বিএনপি। তাতে বলা হয়, সিলেট, রাজশাহীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সরকারি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। এই প্রচার সংবিধান পরিপন্থি হওয়ায় তা বন্ধে ও খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়।

১ মার্চ ইসি সচিব জানান, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন। কিন্তু এরপর বিষয়টির আর কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি।

১৭ এপ্রিল গাজীপুরের পুলিশ সুপারের (এসপি) প্রত্যাহার চায় বিএনপি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়নি উল্লেখ করে বিএনপির দাবি প্রত্যাহার করে ইসি।

৩০ এপ্রিল ২৫ সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনলেও বিএনপির দাবি ছিল, ২০০৮ সালের আগের নির্বাচনি আসনে ফিরে যাওয়া, যা পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে কমিশন।

৩ মে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে বিএনপির এক প্রতিনিধিদল। এর পরপরই কোনো রকম পর্যবেক্ষণ ছাড়াই কমিশন জানিয়ে দেয়, বিএনপির অভিযোগের সত্যতা পায়নি তারা।

১০ মে খুলনা পুলিশের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করে দলটি। এই দাবি বাস্তবায়নও সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় ইসি। একই দিন খুলনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানায় দলটি। বিএনপিকে ইসি আশ্বস্ত করলেও তা বন্ধ হয়নি। একপর্যায়ে খুলনা সিটি নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বন্ধে রুল জারি করে আদালত।

‘কুলুপ এঁটেছে’ কমিশন
৩১ মে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এসব বিষয়ে কথা বলতে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে ফোন করা হয়। সামনা-সামনি কথা বলতে তার কার্যালয়ে যেতে বলেন সচিব। কার্যালয়ে গিয়ে অপেক্ষার পরও দেখা করেননি সচিব। একপর্যায়ে সচিবকে ফোন করা হলে কলটি রিসিভ হয়নি।

প্রথমে রাজি হলেও ‘বিষয়বস্তু’ জানার পর কথা বলেননি কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম। অন্যদিকে কমিশনার মাহবুব তালুকদার দাবি করেন, তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথাই বলেন না।

বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে যতবারই আসছি, তাদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয় না। সবসময় সশরীরে এসে যা বলে যাই, পরে আক্ষেপ করি, তা হয় না।’

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে কোনো পক্ষ অবলম্বন না করে গ্রহণযোগ্যভাবে জাতীয় নির্বাচন সম্পাদন করা। যদিও দেখা যাচ্ছে, এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি কেবলই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দাবিগুলোই বাস্তবায়ন করছে। অন্য রাজনৈতিক দল বা স্টেকহোল্ডাররা সেখানে ততটা গুরুত্ব পাচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের ভূমিকার কারণে পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে নাই। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে, যার ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।’

সূত্র:প্রিয়

ad

পাঠকের মতামত