217062

মা-বাবার পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত রাজীব

পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়া গ্রামে মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাসের চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাছান আলী চৌকিদার বাড়ির কবরস্থানে তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে সকাল নয়টার দিকে বাউফল পাবলিক মাঠে রাজীবের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেখানে চিফ হুইপ আসম ফিরোজ এমপি, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড.মাছুমুর রহমান,পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঈনুল হাসান, স্থানীয় রাজনীতিবীদসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে বাউফলের দাসপাড়ায় রাজীবের নানা বাড়িতে তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে মা-বাবার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

রাজীবের পারিবারিক সূত্র জানায়, বাউফলের ইন্দ্রকূল গ্রামে রাজীবের জন্ম ছোট্ট একটি দরিদ্র পরিবারে। খেটে খাওয়া বাবার আয়ে টানাপোড়নে চলতো রাজীবদের পরিবার। বাবা হেলাল উদ্দিন ছয় বছর আগে মারা যান। আর মা নাসিমা বেগম মারা যান ১৫ বছর আগে। ছোট্ট রাজীবের আরও দুই ভাইকে নিয়ে ওই পরিবারে দেখভাল করার কেউ না থাকায় নানা লালমিয়া নাতীদের দায়িত্ব নেন। সেখানেই রাজীবের স্কুল জীবন শেষ হয়। পরে তার খালা জাহানারা বেগম ঢাকায় জিপিও’তে চাকরি করার সুবাধে মেধাবী ছাত্র রাজীবকে তিতুমীর কলেজে ভর্তি করান। আর অন্য ছোট দুই ভাইকে ঢাকার একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করেন।

গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের বাস টক্কর দিতে গেলে বাস দুটির মাঝখানে পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। সরকারি তিতুমীর কলেজের এ ছাত্রকে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সরকারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। তবে সোমবার মাঝরাতে সবাই কাঁদিয়ে রাজীব চলে যান না ফেরার দেশে।

পরে ময়নাতদন্ত ও প্রথম দফায় জানাজা শেষে মঙ্গলবার দুপুরে রাজীব হোসেনের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় স্বজনরা। রাত রাত পৌনে একটার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

ad

পাঠকের মতামত