216392

মির্জা ফখরুল যে কারণে জোটের সমন্বয়কের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন









নিউজ ডেস্ক।। নিজের ব্যস্ততাকে আঁড়াল করতেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৌশলে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কারণ চলতি বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছরের প্রথম দিকে দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অংশগ্রহণ করলে সেসময় আসন বন্টনের বিষয়টি সামনে চলে আসবে। আর সেই সময়ও যদি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকেন তাহলে নির্বাচনে আসন বন্টনের ঝামেলাটি মির্জা ফখরুল ইসলামের উপরে এসে পড়বে। মূলত এই চাপ এড়াতেই তিনি সমন্বয়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দাঁড়িয়েছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের এক শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সময় নির্বাচনে আসন পাওয়ার জন্য আমরা তো আলমগীর ভাইকে বলবো। আর তিনি (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) এখন আমাদের বলবেন, আমি তো সমন্বয়ক না। আপনারা নজরুল ভাইকে বলেন। আর নজরুল ভাই হসপিটালে থাকবেন। মূলত এই চাপ থেকে মুক্তি পেতেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোটের সমন্বয়ক থেকে সরে গিয়েছেন।

তবে খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে ২০ দলীয় জোটের নতুন সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারাই দিয়েছেন-বলেও সূত্রটি জানায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (বীরবিক্রম) বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক পরিবর্তনকে আমি স্বাগত জানিয়েছি। যদিও পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেলাম, অনেকেই এটাকে স্বাগত জানাননি। আমি মনে করি, বিএনপি চেয়ারপাসনের অনুপস্থিতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপরে কাজের চাপ বেড়ে গিয়েছে। যার ফলে সমন্বয়কের দায়িত্বটি পালনের জন্য আরেক জন্যকে দায়িত্বটি দেয়া হয়েছে।

আর নজরুল ইসলাম খানের সাথে জোটের নেতাদের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। তাই এই পরিবর্তনে জোটের কর্মকান্ড আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমি করি। কিন্তু যারা এখানে নীতিবাচক কিছু দেখেন। তাদের প্রতি আমার আবেদন, তারা যেন সেই মতবাদটি পরিবর্তন করেন। কারণ এটা ২০ দলীয় জোটকে অবমূল্যায়ন ছাড়া অন্য কিছু নয়।




বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এ বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে এবং তারেক রহমান দেশের বাইয়ে থাকার কারণে বিএনপি মহাসচিব সময় দিতে পারছেন না। যার ফলে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমস্যা হচ্ছে। আর এই কারণে তিনি (বিএনপি মহাসচিব) নজরুল ইসলাম খানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমরা আরো মনে করি, জোট এতে আরো উপকৃত হয়েছে এবং নতুন একটি নেতৃত্ব পেয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, সমন্বয়কারী পরিবর্তন করা নতুন কোন বিষয় নয়। বিএনপি যেহেতু জোটের প্রধান শরিক সেহেতু তারা এটা করতেই পারেন। জোটের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাজের পরিধি ও চাপ দুটোই বেড়েছে। তাই বিএনপি নজরুল ইসলাম খানকে জোটের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব প্রদান করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নজরুল ইসলাম খানকে জোটের নতুন সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়।

ad

পাঠকের মতামত