215890

জানা গেল সেদিন ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে বহিষ্কার করার আসল কারন!









নিউজ ডেস্ক।। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালানোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশার ওপর ছাত্রীদের চড়াও হওয়ার ভিডিও যেমন বের হয়েছে, তেমনি এশার হাতে ছাত্রীদের নিপীড়নের অডিও ভাইরাল হয়েছে। তবে ছাত্রলীগ বলছে, অডিওর ভয়েস কার ছিল তা আমরা এখনও নিশ্চিত নই। আমরা যাচাই করছি এটা এশার ভয়েস কিনা।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা। বর্ষবরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এশার ওপর ছাত্রীদের চড়াও হওয়ার ভিডিও যেমন বের হয়েছে, তেমনি এশার হাতে ছাত্রীদের নিপীড়নেরও অডিও ভাইরাল হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, এরকম অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা এখনও অডিওর প্রমাণ পাই নাই। আর অডিওর ভয়েস কার ছিল তাও নিশ্চিত নই।

এসময় ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা যাচাই করছি এটা এশার কণ্ঠ কিনা। তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, আন্দোলনকারীদের থেকে অডিও এবং ভিডিও যা আসছে তার সবই মিথ্যা।

ছাত্রলীগ থেকে তদন্ত কমিটি কেন তাৎক্ষণিক করা হয়নি এবং বহিষ্কারের দুই দিনের মাথায় কেন এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবিদ আল হাসান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সেদিন এশাকে বাঁচানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। সে জন্যই আমরা তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখন যেসব তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি, তাতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি নেই। এজন্য বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়া হয়েছে।




এশা কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, সব গুজবের কারণে হয়েছে। আর মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, সেদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আন্দোলনকারী সেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমরা তথ্য প্রমাণ পরে পাই। যা প্রমাণ করে এশা নির্দোষ।

ঢাবি ভিসির বাসভবনে হামলা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় ছাত্রলীগের কোন দায়ভার আছে কিনা আর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তাদের নেতাদের ওপর আস্থা হারানোয় ছাত্রলীগের কোন ব্যর্থতা আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সোহাগ বলেন, আমরা গিয়ে উপাচার্যকে বাঁচিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জন্য আমরা উপাচার্যকে ফিরে পেয়েছি। ছাত্রলীগ পাশে না থাকলে কেউ বাঁচতে পারে না। আমাদের কাছে সবাই নিরাপদ। এ ঘটনায় আমাদের কোন ব্যর্থতা নেই।

উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল রাতে এশা কর্তৃক কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মারধরের অভিযোগ ওঠার পরপরই এশাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সে আদেশ প্রত্যাহার করে ছাত্রলীগের এ নেত্রীকে স্বপদে বহাল করা হয়। উৎস: বিডি- জার্নাল।

ad

পাঠকের মতামত