215480

ইনজুরি আক্রান্ত ৬ ক্রিকেটারের সর্বশেষ অবস্থা









সবকিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ শেষ হতে না হতেই জানা গেলো রীতিমত ইনজুরির মিছিলে পড়েছেন টাইগাররা। শুরুটা হয় অবশ্য তামিম ইকবালকে দিয়ে। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে গিয়ে হাঁটুর ইনজুরিতে পরেন তিনি। সর্বশেষ সংযোজন নাসির হোসেন। ফুটবল খেলতে গিয়ে ডান হাঁটুর লিগামেন্টই ছিঁড়ে ফেলেছেন এ ক্রিকেটার। ইনজুরিতে আছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাসকিন আহেমদ, মেহেদী হাসান মিরাজ ও রুবেল হোসেনের মতো খেলোয়াড়রাও। এ সকল ক্রিকেটারদের ইনজুরির সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরা ধরা হলো পরিবর্তন ডট কমের পাঠকদের জন্য-

তামিম ইকবাল

তামিমের ইনজুরিটা বেশ পুরনো। বাঁ হাঁটুতে। তবে বড় কোন সমস্যা না হওয়ায় এ নিয়েই খেলছিলেন তিনি। কিন্তু পিএসএল খেলতে পাকিস্তান যাওয়ার পর সেখানে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। একটি ম্যাচও খেলেন। তাতে ব্যাথা আরও বাড়ে। দ্রুত সেখান থেকে ব্যংকক নেওয়া হয়। এমআরআই রিপোর্ট শেষে জানা যায় কমপক্ষে দুই মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। বর্তমানে ফিজিও’র অধীনে নিয়মিত রিহ্যাব করছেন এ ক্রিকেটার। বেশ কষ্টসাধ্য এ প্রক্রিয়াটি এক দিন বিরতি দিয়ে পরপর দুই দিন নিতে হচ্ছে তামিমকে। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীর ভাষায়, ‘তামিমের ইনজুরিটা হাঁটুর দু-তিনটা ইনজুরি মিলিয়ে হয়েছে। হাঁটুর জয়েন্টে সমস্যা আছে, জয়েন্টের বাইরেও আছে। আমরা বাইরের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করছি। ভালো উন্নতি হচ্ছে। আরও সপ্তাহ তিনেক সময় লাগবে রিহ্যাব পুরো করতে। ব্যাটিংয়ে সমস্যা হচ্ছে না। রানিং বা স্প্রিন্টিংয়ে সমস্যা হচ্ছে। স্কিল ট্রেনিং চালিয়ে যাচ্ছে। ওর উন্নতি সন্তোষজনক।’

তাসকিন আহেমদ

বেশ কিছুদিন থেকেই সময়টা ভালো যাচ্ছে না তাসকিনের। মাঝে একটি সিরিজে বাদও পড়েছিলেন। মূলত ব্যাকপেইনের সমস্যায় ভুগছেন তাসকিন। তার পারফরম্যান্সে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছে পিঠের এ ইনজুরি। তাই প্রিমিয়ার লিগ শেষ হওয়ার পর রিহ্যাব করছেন এ ক্রিকেটার। ওষুধ ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমেই তাসকিনের চিকিৎসা চলছে বলে জানান দেবাশীষ, ‘গত ৩-৪ মাস ধরে ওর ব্যাক পেইন। এই ব্যাক পেইন পেস বোলারদের জন্য খুবই স্বাভাবিক। এতদিন ম্যানেজেবল অবস্থায় ছিল। গত ৩-৪ মাস ধরে ভোগাচ্ছে। ওর পারফরম্যান্সে নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে, ব্যাক পেইন একটা কারণ হতে পারে। চেষ্টা করছি কিছু ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি দিয়ে ম্যানেজ করার। পরিস্থিতি এই পর্যায়ে যায়নি যে অপারেশন লাগবে। আশা করছি ইনজেকশন, ফিজিওথেরাপি ও এক্সারসাইজ, এসব দিয়েই ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি।’

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত

পিঠের ব্যাথায় ভুগছেন মোসাদ্দেকও। যদিও সে ব্যাথা অনেকটাই সেরে উঠেছে। আর চোখের সমস্যাও কাটিয়ে উঠেছেন এ ক্রিকেটার। তবে ঝুঁকি এড়াতে বিসিএলের চতুর্থ রাউন্ড খেলছেন না তিনি। পঞ্চম রাউন্ড থেকেই তাকে দেখা যেতে পারে বলে জানালেন বিসিবি চিকিৎসক, ‘মোসাদ্দেকের ব্যাকপেইন ছিলো। সেটা এখন অনেকটাই কমেছে। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কমে এসেছে। আশা করছি বিসিএলের পরের রাউন্ড থেকে ও খেলতে পারবে। সে প্রস্তুতি ও নিচ্ছে। এখন ময়মনসিংহ আছে। মনে হয় না খেলতে কোন সমস্যা হবে। আর চোখের সমস্যা যেটা ছিলো সেটা নিয়ে ওর পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা খুব শিগগিরই ওর চোখের পরীক্ষা করে দেখবো।’

মেহেদী হাসান মিরাজ

কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে প্রায় ছয় মাসের বাইরে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। ঠিক প্রায় একই রকম কাঁধের ইনজুরিতে পড়েছেন মিরাজ। তবে এ সমস্যা নতুন কিছু নয়। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকতেই ছিলো। তবে তা ছিলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই। দীর্ঘদিন টানা খেলে যাওয়ায় এর মাত্রা বেড়েছে। ব্যাটিং-বোলিংয়ে খুব সমস্যা না হলেও বল থ্রো করায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান দেবাশীষ, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সময় থেকেই ওকে এটা ভোগাচ্ছে। চিকিৎসাও হয়েছে। তবে মোটামুটি ম্যানেজেবল অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি ওর থ্রোয়িংয়ে সমস্যা হচ্ছিল। আমরা এমআরএই করিয়েছি, তাতে ওর ল্যাবরাল টিয়ার ধরা পড়েছে। আমরা কনজারভেটিভ উপায়ে চেষ্টা করছি ম্যানেজ করার জন্য। ইনজেকশন অথবা ফিজিওথেরাপি দিয়ে ম্যানেজ করার জন্য। তারপর ব্যথা না কমলে, সমস্যা থেকে গেলে পরবর্তীতে অপারেশনে যেতে হবে। শিগগিরই ওকে ‘পিআরপি’ইনজেকশন দেওয়া হবে। এই ইনজেকশন দু থেকে তিনবার ব্যবহর করতে হবে। এটার ফল পেতে দেড় ধেকে দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে। আমরা এরপরই জানতে পারব যে কনজারভেটিভ প্রক্রিয়ায় কতটা সফল হতে পারছি।’

রুবেল হোসেন

কদিন আগেই সামাজিক মাধ্যমে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন রুবেল হোসেন। তবে সমস্যা গুরুতর নয়। ব্যাকপেইনের সমস্যা থাকলেও কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। তবে বিসিএলে খেলছেন না শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায়। তবে এখন কিছুটা কমলেও থেমে থেমে বাড়ছে জ্বর। বর্তমানে বাগেরহাটে অবস্থান করছেন তিনি। স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়েছেন। সে অনুযায়ীই চলছে তার চিকিৎসা।

নাসির হোসেন

সিরাজগঞ্জে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে হুট করে ফুটবল খেলতে নেমে পরেন নাসির। আর তাতেই বিপত্তি বাঁধান এ ক্রিকেটার। বাঁ হাঁটুর লিগামেন্ট পুরোটাই ছিঁড়ে গেছে। খুব শিগগিরই অস্ত্রোপচার করতে হবে তার। দেশে ও বিদেশে সব জায়গাতেই অ্যাপয়েনমেন্ট নেওয়া হচ্ছে। অপেক্ষা বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের দেশে ফেরার। দেবাশীষের জানান, ‘নাসিরের ডান হাঁটুর লিগামেন্ট (এন্টেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট বা এসিএল) পুরোটাই ছিঁড়ে গেছে সেটাতো জানেনই। অস্ত্রোপচার করতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি কোথায় অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা যায়। দু-তিন জায়গায় অ্যাপয়েনমেন্ট নিয়ে রাখছি। সিইও ফিরলে দু-একদিনের মধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোথায় করা হবে।’

ad

পাঠকের মতামত