এটা জনগণের বিজয়, সরকারের পরাজয় : মওদুদ আহমদ
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
কোটা সংস্কারের দাবিতে সারা দেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা জনগণের বিজয় ও সরকারের পরাজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
তিনি বলেন, ‘এখনই গণমাধ্যমের খবরে দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে কোনো কোটা ব্যবস্থা থাকবে না। উনি শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছেন, এই কোটা আন্দোলন কত বেগবান হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছেন যে, এই আন্দোলন যদি চলে, তাহলে তো তাদের ক্ষমতায় থাকাটাই কঠিন হবে। আমি বলতে চাই, এটা জনগণের বিজয় হয়েছে। সরকারের পরাজয় হয়েছে।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণার পরপরই জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ লেবার পার্টি (ইরান) ঢাকা উত্তর শাখার উদ্যোগে ‘নির্বাচনে সেনা বাহিনী মোতায়েন : নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এসব কথা বলেন।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এভাবেই আগামীতে আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে এবং আগামীতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’
কোটা সংস্কারে আন্দোলনকারীদের দাবিকে যৌক্তিক মন্তব্য করে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা সংস্কারের আন্দোলনে এই সরকারের বিরুদ্ধে সারা দেশে মানুষ ও ছাত্র সমাজের পুঞ্জিভুত ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে। এটা শুধু কোটা নয়, তাদের (শিক্ষার্থী) মনের অনেক ক্ষোভ। তারা তো দেখছে- দেশ কিভাবে চলছে, দেশে কী ধরণের গণতন্ত্র আছে তারা জানে। ’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আজকে কোটাকে কেন্দ্র করে এই যে আন্দোলন, এটার অনেক গভীর তাৎপর্য আছে বলে আমি মনে করি। এর মধ্য দিয়ে ছাত্র সমাজ সারা দেশের মানুষের মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।’
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার দাবিও জানান মওদুদ আহমদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মওদুদ বলেন, ‘এই যে উপাচার্যের বাসা ভাঙচুর হলো। তারা (সরকার) এখন চান যে, এটা তলিয়ে দেখতে হবে, এর মধ্যে নিশ্চয়ই অনেক কিছু আছে। পাকিস্তান আমলে আমরা যখন ছাত্র আন্দোলন করতাম আমাদের সবাইকে পাকিস্তান সরকার ও প্রশাসন বলতো এরা কমিউনিস্ট। আমাকে পর্যন্ত কমিউনিস্ট বলতো। কেন কমিউনিস্ট? বলে যে সরকার বিরোধী হলেই কমিউনিস্ট।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থা হয়েছে ওই রকম। আওয়ামী লীগ ও তার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেই বা তার সমালোচনা করলেই সবাই রাজাকার। এই মতিয়া চৌধুরী (কৃষিমন্ত্রী), আমি তো কারো নাম নিয়ে কিছু বলি না। আমার মনে হয় তার উচিৎ হবে পদত্যাগ করা। তা নাহলে সারা জাতির কাছে তাকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাওয়া। কারণ এই ছাত্রসমাজ যারা আন্দোলন করছেন তাদেরকে রাজাকার বলে আমরা মনে হয় উনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’
বিএনপির মহানগর সভাপতি এসএম ইউসুফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন— বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়




