কোটা নিয়ে সরব রাজনীতিতে নীরব থাকা সোহেল তাজও
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে সরব হলেন রাজনীতিতে নীরব থাকা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে আলোচনায় আসা তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।
বুধবার বিকাল ৫টায় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।
সেখানে সোহেল তাজ লিখেন, ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল একটি মেধাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা- এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে যোগ্যতাই হবে মূল মাপকাঠিI’
যদিও এর কিছুক্ষণ পরে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি বাতিল, পরিষ্কার কথা। বারবার আন্দোলনের নামে জনগণের ভোগান্তি এড়াতে সংস্কারের চেয়ে এটা বাতিল হলেই ভালো।’
তিনি বলেন, জেলায় জেলায় যে কোটা রয়েছে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমে গেছে। আমি বলে দিয়েছি- কোনো কোটাই থাকবে না। বিসিএসে যেভাবে পরীক্ষা হয়, মেধার ভিত্তিতেই সব নিয়োগ দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেয়েরাও রাস্তায় নেমে গেছে, কোটা চায় না। তাহলে কোটা পদ্ধতি থাকার কী দরকার? প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করব।
উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার দাবিতে রোববার দুপুরে পূর্বঘোষিত গণপদযাত্রা শেষে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ৮টার দিকে তাদের ওপর পুলিশ চড়াও হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী আহত হন। এছাড়া শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার তাদের মুক্তি দেয়া হয়।

সোমবার বিকালে সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে চাকরিতে বর্তমান কোটা পদ্ধতি ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষায়’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসা কমিটি।
কিন্তু ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সরকারের অস্পষ্ট আশ্বাসে’ আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
অর্থমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের পর কোটা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আগের মতো আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে মঙ্গলবার ফের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়।
কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা আসতেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ফের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হতে থাকেন। নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাত ৯টা পর্যন্ত মিছিল আর স্লোগানে তারা গোটা ক্যাম্পাস মুখরিত করে রাখেন।
বুধবারও চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকলে রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেরপর আজকের মতো আন্দোলন শেষ করে ঘরে ফিরেন শিক্ষার্থীরা।




