214985

হাউমাউ করে কেঁদে বলল, ‘এ কেমন বিচার?’

নিউজ ডেস্ক।। তাদের ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এলাকার একটি তরমুজ ক্ষেত থেকে ১০টি তরমুজ চুরি করে খেয়েছে। এ কারণেই বেধড়ক মারধর। তারপর ন্যাড়া করা হয় চারজনের মাথা। আরও তিনজনের কেটে দেওয়া হয় চুল।

ওই ১১ জন শিক্ষার্থী। এমন ঘটনার পর লজ্জায় ওই কিশোররা গত দুই দিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে না। তাদের অভিভাবকরাও বাড়ি থেকে বের হতে লজ্জা পাচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নে। নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্র।

গতকাল সোমবার ঘটনাটি জানাজনি হয়।

চুরির অভিযোগে মারধরের শিকার এক শিক্ষার্থী জানায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তারা ১১ জন মিলে গ্রামের জামাল খান নামের এক ব্যক্তির তরমুজের ক্ষেত থেকে ১০টি তরমুজ ছিঁড়ে খায়। এর জের ধরে পরদিন শনিবার রাতে স্থানীয় মকবুল শিকদারের বাড়ির ছাদে সালিশ হয়। সেখানে তারা ১১ জন ও তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাত ৯টার দিকে শতাধিক মানুষের সামনে সালিশ শুরুর ঠিক আগ মুহুর্তে সাইফুল সিকদার (৪০) নামের এক ব্যক্তি তাদের (১১ জন) মধ্যে চারজনের মাথা ন্যাড়া করে দেন। সে সময় মো. জুলহাস (৩০) ও তার বাবা সিদ্দিক সরদার (৫৫) নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাদের পিটিয়ে আহত করে।

এ সময় অভিভাবকেরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। বাড়ি যাওয়ার পথে ফের দ্বিতীয় দফায় তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়।

এ বিষয়ে এক শিক্ষার্থীর মা বলেন,‘ওরা পোলাপান মানুষ। না কইয়া তরমুজ খাইয়া ভুল করছে। ওগো আব্বার কাছে কইলে না টাকা দিয়া দিতো। হেইয়ার লইগ্যা অগোরে ডাইক্কা নিয়া এভাবে মারবে ও মাথা কামাইয়া (ন্যাড়া) দিবে? শরমে (লজ্জায়) স্কুলে যাওন বন্ধ কইরা দিছে।’

সালিশ-বৈঠকের আয়োজক মো. ফরিদউদ্দিন শিকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,‘আমার উদ্দেশ্য ছিল ওদেরকে বুঝিয়ে বলা, একটু শাসিয়ে দেওয়া, যাতে এ জাতীয় কাজ ভবিষ্যতে আর না করে। কিন্তু হঠাৎ করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে আসল লক্ষ্য উদ্দেশ্য পণ্ড হয়ে যায়।’

ফরিদউদ্দিন আরও বলেন, সাইফুল কয়েক ছাত্রের চুল কেটে দিয়েছে। তবে বর্তমান বিষয়টিও মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেবেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাইফুল তরমুজ ক্ষেতের মালিক জামাল খানের দুঃসম্পর্কের আত্মীয়। তিনি অতি উৎসাহী হয়ে ওই কাজটি করেছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নির্যাতিত নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলে,‘অনেক মানুষের মধ্যে আমাদের চুল কেটে দেওয়া হবে? এটা কেমন বিচার? এখন ক্যামনে সবার সামনে যামু? এ কারণে নিজেকে লুকিয়ে রাখছি।’

তবে ছিদ্দিক সরদার বলেন,তিনি মারধর করেননি। কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিয়েছেন। সাইফুলই ওদের চুল কেটেছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সাইফুলের মুঠোফোনে কল করলে বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন,‘বিষয়টি আপত্তিকর ও খুবই দুঃখজনক। অপরাধ করলে বিচার হবে। কিন্তু মাথা ন্যাড়া করে ওদের প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে।’

কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন লাভলু বলেন,‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন,‘এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত