‘লাশ ফেলে দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল’
![]()
![]()
![]()
![]()
নিউজ ডেস্ক।। লাশ ফেলে বিভীষিকা সৃষ্টি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারকে অচল করার পরিকল্পনায় নিজ বাসভবনে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপাচার্য আখতারুজ্জামান।
মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের উপাচার্য বাসভবন পরিদর্শনে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে তিনি একথা বলেন।
এসময় উপাচার্য আরো বলেন, দুর্বৃত্তরা চেয়েছিল একটি লাশের রাজনীতি করতে, রক্তের রাজনীতি করতে। এটি একবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে… হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে রক্তপাত ঘটিয়ে একটি বিভীষিকাময় পরিবেশ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করা, সরকারকে অচল করা, অস্থিতিশীল একটা পরিবেশ সৃষ্টি করাই ছিল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, এর সাথে কোটার কোনো সম্পর্ক নেই। রাত ২টার দিকে যদি পুলিশ র্যাব অ্যাকশনে যেত তবে অনেক প্রাণহানি হতো, যেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়- দুর্বৃত্তদের এটাই ছিল প্রত্যাশা।
পুলিশ এবং র্যাবের শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে আমরা এই দুর্বৃত্তকে দমন করিনি এবং সেটার জন্য আমরা যে প্রজ্ঞা এবং সাহসী একাগ্রতা এবং নৈতিক মানে উজ্জীবিত থেকেছি এবং বড় আকারের প্রাণহানি যে ঘটেনি সে কারণে সিন্ডিকেট সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা রোববার শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে পুলিশ তাদের রাবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে সরিয়ে দেয়।
![]()
![]()
![]()
![]()
কিন্তু এরপর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। রাত দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভ্যাপক ভাঙচুর করা হয়। টিএসসিসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে রাতভর। আহত হয় দেড় শতাধিক।
রোববার রাতের ওই হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, হামলার আগে মেয়েদের একটি মিছিল স্লোগান দিয়ে গেটের সামনে এলেও তারা ভেতরে ঢুকেনি।
রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব দিক থেকে একদল মিছিল নিয়ে এসে হামলা করে। এখানে গেইটে প্রায় ১৫ মিনিট যাবত হামলা করতে ছিল। তারপর ওয়াল টপকে তারা উপরে উঠে সিসি ক্যামেরা ভেঙে ভাঙচুর শুরু করলো।
প্রায় ৭০-৮০ জন হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ভেতরে ঢুকেই আলো বাতিগুলো ভাঙতে শুরু করে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, তখন আমি বুঝতে পারছি এরা আন্দোলনকারী নয়। তখন পরিবারে সদস্যরা দিগ্বিদিক ছোটাছোটি শুরু করছে। তখন আমি ভাবছি ওরা বুঝি নিচে ভাংচুর করেই চলে যাবে। এর মধ্যে আমি নিচে যাওয়ার জন্য এগুচ্ছি তখনই তারা উপরে উঠে এসে আমার বেডরুমে ভাংচুর শুরু করলো। এই তাণ্ডবলীলা শুরু করলো। আমার মেয়ে ও স্ত্রী কোনোক্রমে পালানোর পথ পেয়ে বের হয়ে গেল।
![]()
![]()
![]()
![]()
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র এ্ই ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তার কি ধরণের শাস্তি হবে জানতে চাইলে আখতারুজ্জামান বলেন, বিধান অনুযায়ী সেগুলো আইনের মধ্যে হবে। কোনো দস্যুবৃত্তির স্থান এখানে নাই। যে কোনো ধরণের দস্যু যে কোনো ধরনের দূর্বৃত্ত চিহ্নিত হবে তখন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি তাদের পৃষ্টপোষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, যারা আমার বাড়িতে পবেশ করেছে তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, তারা কিন্তু আমার প্রাণ রক্ষা করেছে। তবে মুখোশ পরা কয়েকজন আমাকে লাঠি হাতে আক্রমণের, আঘাত করার চেষ্টা করেছে।




