213297

আইনজীবী রথীশকে যেভাবে সুক্ষ পরিকল্পনা করে হত্যা করেন স্ত্রী

নিউজ ডেস্ক।। রংপুরে নিখোঁজ থাকা আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনাকে ২৯ মার্চ রাতেই হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে ১০টি ঘুমের বড়ি খাইয়ে রথীশ চন্দ্রকে অচেতন করেন তার স্ত্রী দীপা ভৌমিক। এরপর তাকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ বলছে, স্ত্রীর পরকীয়ার কারণেই খুন হন রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর স্ত্রীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশটি উদ্ধার করে র‌্যাব। রংপুর শহরে রথীশের বাড়ির আধা কিলোমিটার দূরে তাজহাট মোল্লাপাড়া এলাকার নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে রথীশের মরদেহ পাওয়া যায়।

র‌্যাব-১৩-এর অধিনায়ক আরমিন রাব্বি জানান, যে বাড়িতে রথীশের মরদেহ পাওয়া গেছে, তা দীপার সহকর্মী ও তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলামের ভাইয়ের বাড়ি। দীপা ভৌমিকও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

দীপার প্রেমিক কামরুল ইসলামের মোবাইলের কললিস্টের সূত্র ধরেই খুনের রহস্য উদঘাটনে এগোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই কললিস্টে দেখা যায় প্রতিদিন এই প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি ৩০ থেকে ৩৫ বার মোবাইলে কথা বলতেন।

যেভাবে খুন হন রথীশ:
বুধবার রংপুরে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, দুই মাস আগেই রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল তারা। তবে নানা কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। পরে গত ২৯ মার্চ রাতে নিজ ঘরেই খুন করা হয় রথীশ চন্দ্রকে। রথীশের স্ত্রী দীপার সহায়তায় তার কথিত প্রেমিক কামরুল তাকে হত্যা করেন।

যে দিন খুন করা হয়, সে দিন রাতে ভাত ও দুধের সঙ্গে ১০টি ঘুমের বড়ি খাইয়ে রথীশ চন্দ্রকে অচেতন করেন দীপা। এরপর দীপা ও তার কথিত প্রেমিক কামরুল মিলে রথীশ চন্দ্রকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরদিন খুব ভোরে কামরুল বাবুপাড়ার ভৌমিকের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে সকাল ৯টায় কামরুল একটি ভ্যান নিয়ে আবারো রথীশ চন্দ্রের বাড়িতে আসেন। এসময় দীপা তার স্বামীর লাশ আলমারির ভেতরে ঢুকিয়ে ভ্যানে করে নিয়ে যান কামরুলের ভাইয়ের মোল্লাপাড়ার নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে। সেখানে আরো তিনজন মিলে লাশটি গর্ত করে মাটিচাপা দেয়।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, মাত্র ৩০০ টাকার বিনিময়ে তারা দুজন ছাত্রকেও এ কাজে ব্যবহার করেন। ছাত্ররা হলেন-মোল্লাপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে সবুজ ইসলাম (১৭) ও একই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে রোকনুজ্জামান (১৭)। তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেনজির আহমেদ জানান, কামরুল ইসলাম জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
গত শুক্রবার আইনজীবী রথীশের পরিবার থেকে জানানো হয়, তিনি বাবুপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপরই তার সন্ধানে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এরপর শনিবার রাতে নগরীর রাধাবল্লভের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কামরুল ইসলামকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের তথ্য বেরিয়ে আসে।

প্রসঙ্গত, রথীশ চন্দ্র জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও মাজারের খাদেম হত্যা মামলার সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলার সাক্ষী ছিলেন তিনি। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদকও। এছাড়া জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক। হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও রংপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ছিলেন এই আইনজীবী।

ad

পাঠকের মতামত