213037

পুরনো সিলেবাসে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ায় ৩ শিক্ষক বহিষ্কার

নাটোরের গুরুদাসপুরে ২০১৬ সালের সিলেবাসে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ১৫ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।




মঙ্গলবার সকালে তাদের বিরুদ্ধে এ আদেশ দেয় পরীক্ষা কমিটি। অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন শামসুজ্জোহা কলেজের প্রভাষক লুৎফুল হক, রিতা রানী ও আখের আলী।

পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্র সচিব সূত্রে জানা যায়, বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারী কলেজে সোমবার ওই ঘটনা ঘটে। এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষায় ওই কলেজের ৩০১ নম্বর কক্ষে ৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে অনিয়মিত অর্থাৎ ২০১৪-১৫ সেশনের ২০১৬ সালের পাঠ্যসূচী অনুযায়ী পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ জন। আর নিয়মিত অর্থাৎ ২০১৬-১৭ সেশনের ২০১৮ সালের পাঠ্যসুচী অনুযায়ী পরীক্ষার্থী ছিল ৩৬ জন।

ওই কক্ষে নিয়মিত পরীক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধা ড. মহসীন কলেজের ৩৬জন আর অনিয়মিতদের মধ্যে বেগম রোকেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২জন, নাজিরপুর ডিগ্রী কলেজের ১ জন, কাছিকাটা স্কুল এ্যান্ড কলেজের ২জন, রোজী-মোজাম্মেল মহিলা কলেজেরে ৪জন এবং খুবজীপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রী কলেজের ৫জন পরীক্ষার্থী ছিল। দায়িত্বরত শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র প্রদানের সময় ২০১৪-১৫ সেশনের ২০১৬ সালের ১৫টি প্রশ্ন ২০১৬-১৭ সেশনের ২০১৮ সালের ১৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহু নির্বাচনী প্রশ্নপত্র দিয়ে দেয়।

বিষয়টি পরীক্ষার ৫মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের নজরে আসলে কর্মরত শিক্ষকদের জানালে তারা কোন পদক্ষেপ নেননি। তারা বাধ্য হয়েই ওই প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র সচিবকে জানালে কেন্দ্র সচিব তাদের কোনো সমস্যা হবেনা বলে জানায়।

উল্লেখ্য, বহুনির্বাচনী প্রশ্নে ২০১৮ সালের ৩০ মিনিট এবং ২০১৬ সালের পরীক্ষার্থীরা ৪০ মিনিট সময় পরীক্ষা দিবে।

ওই পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে রাসেল রানা, রুনা খাতুন, কাওছার আলী, মারুফ আহমেদ ও সাকিবুল ইসলাম কথা বললে তারা জানায়, তাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। তারা পরীক্ষার টেনশনে ওই ভাবে প্রশ্নপত্র দেখেননি। কর্তব্যরত ওই তিন শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানান তারা।

কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ রেজাউল করিম জানান, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পরামর্শে ওই তিন শিক্ষককে দায়িত্ব অবহেলার কারণে পরীক্ষার সকল কার্যক্রম থেকে বহিঃষ্কার করেন। তাদের কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই পরীক্ষার্থীদের যাতে করে কোনো সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। তিনি আশ্বাসও দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, অভিযুক্ত ওই তিন শিক্ষককে সাতদিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত