সাফল্যের রহস্য জানালেন
যতোই বয়স হচ্ছে বোলিংয়ে তার ক্ষুরধার যেন বাড়ছে। সোমবার মাশরাফি বিন মুর্তজা নিজেকে নিয়ে গেলেন অন্য উ”চতায়। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের সর্বো”চ উইকেট শিকারি এখন তিনি। ১৫ ম্যাচে তার উইকেট ৩৮টি। কেউ কেউ বলছেন ঢাকা লিগেরই সর্বো”চ উইকেট শিকারিও তিনি।
লিস্ট ‘এ’ মর্যাদার পর গত আসরে আবু হায়দার রনির নেয়া ৩৫ উইকেটই ছিল আগের সর্বো”চ। মাশরাফি জানালেন, সাফল্যে পাওয়ার জন্য আলাদা কিছু করেননি তিনি। তিনি মনে করছেন, নিজের উপর তার নিয়ন্ত্রন বাড়ার কারনেই সাফল্য এসেছে।
মাশরাফি এবারই ঢাকা লিগে প্রথমবারের মতো হ্যাটিট্রক করেছিলেন। ফ্লাট উইকেট থাকা সত্বেও এভাবে উইকেট আদায় করার পেছনের রেসিপিটা কী? মাশরাফি বলেন, ‘লিগের শুরুতে জানতাম এ মৌসুমে পুরোটা খেলার সুযোগ আছে। মানসিকভাবে সেভাবে প্র¯‘তি ছিল না। শুধু চিন্তা করেছিলাম পরের ওয়ানডে সিরিজের জন্য অনুশীলন যেন ঠিকঠাক হয়। আমার কাছে লিগটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন পর্যন্ত সব ভালো যাচ্ছে। এটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
তাহলে কী অভিজ্ঞতার কারনেই এই সাফল্য। মাশরাফি বলেন, ‘খেলার জায়গায় কোনো পার্থক্য হয়েছে বলে মনে হয়নি। একটা পার্থক্য তৈরি হয়েছে সেটা নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারা। এই ম্যানেজিং পাওয়ারটা মাঠের বাইরেও হতে পারে। জিম, রানিং হতে পারে। এটা অভিজ্ঞতার সঙ্গে হবে। দীর্ঘদিন খেললে আপনাকেও অন ফিল্ডে সেটা সহায়তা করবে।’
উইকেট শিকারির তালিকায় মাশরাফির ধারেকাছেও নেই বাকিরা। দ্বিতীয় সর্বো”চ উইকেট কাজী অনিক, আসিফ হাসান ও ফরহাদ রেজার। তাদের তিনজনেরই উইকেট সমান ২৮টি করে। পেস বোলাররা ভালো করার খুশি মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘এ বছর বেশ কজন ভালো বোলিং করেছে। সর্বো”চ উইকেটশিকারির তালিকার পাঁচ-ছয়জনের মধ্যে চারজন ফাস্ট বোলার রয়েছে। এটা ভালো আমাদের জন্য। এদের তৈরি করে রাখতে হবে।
ফরহাদ রেজা বাদে বেশিরভাগ বোলার তরুণ। উইকেট অনেক ফ্লাট ছিল, ব্যাটসম্যানদের জন্য খুব সহায়ক ছিল। এ ধরনের উইকেট পেস বোলারদের অনুশীলনের জন্য ভালো। বাইরের টুর্নামেন্টে বা বিশ্বকাপে ফ্লাট উইকেট বোলিং করতে হবে। তাই পেস বোলারদের এই পারফরম্যান্স ইতিবাচক। এটা ধরে রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘তরুনদের মধ্যে কাজী অনিক ভালো বোলিং করেছে। প্রাইম দোলেশ্বরের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে দেখলাম শাকিল নামের একটা বোলার ছিল, প্রথম বিভাগ থেকে এসেছে। এদের ভালো প্র¯‘তির মধ্যে রাখতে পারলে নিকট ভবিষ্যতে ভালো করবে।’
তরুনদের ইতিবাচক দিকগুলো বেশি করে তুলে ধরার কথা জানালেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘তরুনদের নেতিবাচক দিক না নিয়ে ইতিবাচক দিক দিয়ে ভাবা উচিত। সেগুলো তুলে ধরা উচিত। ভুল তো আমরা সিনিয়ররাও করি। ওদের ভুলগুলো না তুলে ইতিবাচক দিক তুলে সেভাবে তাদের গাইড করা দরকার।
শুধু আসলাম আর গেলাম এরকম যেন না হয়।’ ঘরোয়া ক্রিকেটে মাশরাফি যেখানেই যাচ্ছেন সেই দল যেন চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে। এবার ঢাকা লিগে আবাহনীতে এসেছেন, তারাও চ্যাম্পিয়নের পথে। এর রহস্য কী? মাশরাফি বলেন, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী। চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে জিততে পারলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতাশ। কষ্ট করে যাবো কিছু পেলে অবশ্যই ভালো লাগে।’




