212457

‘গোসল জানাজা হয়ে গেছে, দাফন করে দিন’

ডেস্ক রিপোর্ট।। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবুর রহমান ও তার খাদেমের বিরুদ্ধে তিন বছরের শিশু শেখ ফরিদকে কবিরাজী চিকিৎসার নামে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩১ মার্চ) এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত কবিরাজ মাহবুবুর রহমানের বাড়ি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কুচাইতলী, আর খাদেমের বাড়ি নগরীর মোগোলটুলি এলাকায়।

শিশু শেখ ফরিদ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি (ঝুমুর সংলগ্ন)সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের প্রবাসী জামাল হোসেনের একমাত্র সন্তান।

শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিন বছরের ছোট্ট শিশু শেখ ফরিদ বেশি দুষ্টুমি করার কারণে শুক্রবার সকালে ওই কবিরাজের কাছে নিয়ে যান তার মা। কবিরাজের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী দুষ্টুমি কমাতে ফরিদকে তিন দিনের জন্য কবিরাজের কাছে রেখে আসেন তার মা। ওইদিন রাতে মোবাইল ফোনে কবিরাজের কাছে ছেলের খবর নেন তিনি। কবিরাজ জানায়, ‘ছেলে ফরিদ ভালো আছে। চিকিৎসা চলছে। রবিবারে এসে নিয়ে যাবেন। একবারে ভদ্র ও শান্ত হয়ে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

এরপর শনিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সাদা কাফনে মোড়ানো শিশু ফরিদের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের বাড়িতে পাঠায় কবিরাজ মাহবুবুর রহমান। অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে আসে কবিরাজের এক খাদেম। মোবাইল ফোনে সে ফরিদের মাকে জানায় ‘জ্বীনে মেরে ফেলেছে সকালে, গোসল জানাজা হয়ে গেছে, দাফন করে দিন।’

এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পরে ফরিদের মামাতো ভাই জাহিদ হোসেন এবং নিকটাত্মীয় মোবারক মিয়া বিষয়টি পুলিশকে জানান।পরে পুলিশ কবিরাজ মাহবুবুর রহমানের খাদেম ও অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারকে আটক করে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনও লিখিত কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কবিরাজের দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। উৎস: বাংলা ট্রিবিউন।

ad

পাঠকের মতামত