212183

কেউ কেন আরও আগে দেখেনি এই শাকিবকে

বিনোদন ডেস্ক।। ‘শাকিব খান বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক। তিনি সুপারস্টার। আর সুপারস্টারের বিপরীতে অভিনয় করা মানেই বাড়তি দায়িত্ব পালন। আমাদের এখানে (কলকাতায়) দিনে দিনে শাকিবের ভক্ত বাড়ছে। পছন্দ না করলে এটা সম্ভব হতো না। এটা ধরে রাখতে হলে আরও কিছু ছবি তার দেওয়া উচিত। আমি কলকাতায় শাকিব খানের আরও অনেক ছবি চাই।’ সুপারস্টার শাকিব খানকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকে কথাগুলো বলেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পায়েল মুখার্জি।

কলকাতার আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বাংলাদেশের একটি অনলাইনকে বলেন, ‘শাকিব খান পুরোপুরি বাণিজ্যিক ছবি করছে। ভালো হচ্ছে। আমি চাই, শাকিব আরও ভালো করুক। কারণ একটা দেশ থেকে আরেকটা দেশে গিয়ে সাফল্য পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। এটা শাকিব তার কাজ দিয়ে অর্জন করেছে। সবাইকে টেক্কা দিয়ে এ জায়গা অর্জন করা অনেক কষ্টের।’

শাকিব খানকে নিয়ে এমন অনেক কথাই বিভিন্ন সময় বলেছেন ওপারের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ প্রযোজক-পরিচালক। এর মানে হচ্ছে দুই বাংলাতেই জনপ্রিয়তার জোয়ারে ভাসছেন শাকিব। দেড় যুগেরও বেশি সময় এই একজনের কাঁধে ভর করেই টিকে আছে আমাদের চলচ্চিত্র। ফলে একমাত্র তার অভিনীত ছবি মুক্তি পেলেই নির্ভার থাকেন প্রযোজক। তিনি ছবিতে থাকা মানেই লগ্নিকৃত অর্থ লাভসহ ফিরে আসা।

এই অবস্থানে আসতে অনেক চড়াই-উতরাই পার করতে হয়েছে শাকিব খানকে। ১৯৯৯ সালে আফতাব খান টুলু পরিচালিত ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন শাকিব। যদিও তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের নাম ‘অনন্ত ভালোবাসা’। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালেরই ২৮ মে। সিনেমা হিসেবে ‘অনন্ত ভালোবাসা’ খুব একটা সফল না হলেও নায়ক শাকিব খান ঠিকই সবার নজর কাড়তে সক্ষম হন।

এর পর দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়। ধীরে ধীরে শাকিব খান হয়ে ওঠেন কিং। দর্শককে উপহার দিতে থাকেন একের পর এক সুপারহিট ছবি। একটা সময় বিষয়টা ক্লান্তি ধরিয়ে দেয়! কারণ ছবি সুপারহিট হলেও নায়কের চেহারায় ছিল না কোনো পরিবর্তন। প্রতিটি ছবিতে একই লুকের শাকিব। সাধারণ মানুষ ভাবে, এত সুশ্রী মুখ বলিউডেও নেই, কলকাতা তো তালিকায়ই থাকে না। অথচ এই সম্পদ আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। সাধারণ মানুষের মনের এই কথা পড়লেন শাকিব খান। নিজের মধ্যে একটা বিশাল পরিবর্তন করতে চুক্তিবদ্ধ হলেন যৌথ প্রযোজনার ছবিতে।

ছবির নাম ‘শিকারী’। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারতের এসকে মুভিজ প্রযোজিত ছবি এটি। যেমন নাম, তেমন তার কাজ। এই ‘শিকারী’ দিয়ে শাকিব খান নতুন করে শিকার করলেন অনেক নাক উঁচু দর্শকের মন! যারা কথায় কথায় বলেন, বাংলা সিনেমা এখন আর দেখা যায় না, তারাও কড়া নাড়লেন সিনেমা হলের দরজায়। আর বলতে লাগলেন, এ কোন শাকিব, একে তো দেখিনি আগে। সত্যিই তাই। এই শাকিবকে আগে দেখেনি দর্শক। হয়তো দেখেনি আমাদের পরিচালকরাও! এ কারণেই কি শাকিবের ওপর বইতে থাকে নিষেধাজ্ঞার ঝড়!

কথা ওঠে ‘ভারতীয় ছবি ঠেকাও’ আন্দোলনে তার কর্মকা- নিয়ে। বিষয়টি স্পষ্ট করতে শাকিব খান বলেন, ‘আমি বরাবরই দুই বাংলায় ছবি বিনিময়ের ঘোর বিরোধী ছিলাম। এখনো এর বিরোধিতাই করব। আমি সব সময় চেয়েছি যৌথ প্রযোজনা হোক। এর সুবিধা হলো দুই বাংলা থেকে প্রযোজকরা লগ্নি করায় বড় বাজেটের ছবি তৈরি সম্ভব হয় অনায়াসে। খরচটা তেমনভাবে কারো গায়েই লাগে না।’

এদিকে ২৮ মার্চ ছিল শাকিব খানের জন্মদিন। সেদিন তিনি উদ্বোধন করেন অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ‘শাকিব খান অফিসিয়াল’। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইউটিউবের বিভিন্ন চ্যানেলে শাকিব খানের বিভিন্ন কনটেন্টে লাইকের সংখ্যা প্রায় ৩২ কোটি। এ সব কিছুকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসে উদ্বোধন হয় ‘শাকিব খান অফিসিয়াল’। উদ্বোধনের সময় এ তথ্য জানান ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশক ডিজিটাল অনলাইন কনটেন্ট প্লাটফর্ম বঙ্গ এর আয়োজকরা।

এই চ্যানেল প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, আমি বিশেষ দিনে এই বিশেষ কাজটি করতে চেয়েছি। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই ইচ্ছা ছিল আমার। বঙ্গের সঙ্গে নানা ভাবে আমি যুক্ত ছিলাম। তারা অনেকদিন ধরেই আমাকে বলছিল। অবশেষে মনে হল এটিই উপযুক্ত সময়। ‘শাকিব খান অফিসিয়াল’ থেকে প্রকাশ করা হবে শাকিব অভিনীত সিনেমার ভিডিও, গান, ট্রেইলার, বিহাইন্ড দ্য সিনসহ বিভিন্ন প্রচার মূলক ভিডিও।

অনুষ্ঠানে শাকিব খান বলেন, ‘যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক কিছুই বদলে যাচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহ ও টেলিভিশন ছাড়াও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন বিনোদনের বড় একটি মাধ্যম। এখান থেকেও উপর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুধু তাই নয়, অনেক সময় ভুল তথ্য দিয়ে শিল্পীকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান অনেকে। সে ক্ষেত্রেও শিল্পীর আসল কথাগুলো এই মাধ্যম থেকে প্রকাশ করা সম্ভব।’ উৎস: ২৪বিনোদনবিডি

ad

পাঠকের মতামত